স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হাসপাতালে খালেদা জিয়া

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল সোমবার বিকেলে তিনি তার গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালে যান। সেখানে আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাতে বাসায় ফেরেন তিনি। পরীক্ষার ফলাফল দুই-একদিনের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে জানান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসায় ফেরার পর ফিরোজার সামনে চেয়ারপারসনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ডা. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘গত ১১জুন খালেদা জিয়ার হার্টে একটি রিং পরানো হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী ৪/৬ সপ্তাহের মধ্যে তার ফলোআপ করতে হয়। এই ফলোআপের জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া আরও কিছু পরীক্ষা করা হয়। এর রিপোর্ট আগামী দুই-একদিনের মধ্যে পাওয়া যাবে।’

ডা. জাহিদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার হার্টে বাকি দুটি যে ব্লক রয়েছে তার চিকিৎসার জন্য শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর বোঝা যাবে তার শারীরিক অবস্থা। তবে তার যেহেতু কিডনি, লিভার, হার্টসহ নানা সমস্যা রয়েছে তাকে চিকিৎসার জন্য মাল্টি ডিসিপ্লানারি সেন্টারে নেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের সুযোগ কেবল আমেরিকা, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে রয়েছে। এর আগেও তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছে। আমরা দাবি জানাচ্ছি অবিলম্বে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।’  

খালেদা জিয়ার পরিবারের এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শারীরিক নানা জটিলতার কারণে বিভিন্ন রকম সমস্যা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে তার পায়ে প্রচ- ব্যথা ছিল। ব্যথার কারণে হাঁটতে পারছিলেন না তিনি। এখন কিছুটা কমেছে। ভালোমন্দ মিলেই আছেন খালেদা জিয়া। এখনো শক্ত খাবার খেতে পারেন না। তাকে লিকুইড খাবার দেওয়া হচ্ছে।’  

৭৮ বছর বয়সী খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বাধীন একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সর্বশেষ গত ১১ জুন এভারকেয়ার হাসপাতালে তার হৃদপিণ্ডের ব্লক অপসারণ করে একটি ‘স্টেন্ট’ বসানো হয়েছিল। গত বছর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার ‘পরিপাকতন্ত্রে’ রক্তক্ষরণ এবং লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথাও জানান চিকিৎসকরা।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা ২০১৮ সালে কারাগারে গিয়েছিলেন। দেশে করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর পর পরিবারের আবেদনে ২০২০ সালে ২৫ মার্চ তাকে নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। তখন শর্ত দেওয়া হয়েছিল, তাকে দেশে থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে। বিএনপি তাকে বিদেশ নেওয়ার দাবি জানিয়ে এলেও সরকারের পক্ষ থেকে সাড়া মেলেনি।

এদিকে গতকাল বিকেলে খালেদা জিয়া যখন হাসপাতালে পৌঁছান তখন দলীয় নেতাকর্মীদের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে প্রায় ১৫ মিনিট তাকে গাড়িতেই বসে থাকতে হয়। পরে নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তায় তাকে হাসপাতালের ভেতরে নেওয়া হয়। তিনি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার সময়ও গাড়ির পাশে শতাধিক নেতাকর্মীর জটলার কারণে তাকে গাড়িতে তুলতে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশি প্রহরা ও দলীয় নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল ও গাড়ি প্রহরায় গুলশানের বাসায় ফেরেন তিনি।  তার বাসায়ও  বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।