শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র-শনিবার

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সভায় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে উভয় মন্ত্রণালয়।

গতকাল সোমবার বিকেলে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করে আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। চলতি সপ্তাহ থেকেই এ আদেশ কার্যকর হবে। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমে বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির চিন্তা করেছিল। পরে তারাও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিল রেখে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুদিন সাপ্তাহিক ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই ছুটি বৃহস্পতি ও শুক্রবার করার ব্যাপারে একটা চিন্তাভাবনা ছিল। কিন্তু পরে আমরা সে চিন্তা থেকে সরে এসে শুক্র ও শনিবারই সাপ্তাহিক ছুটির সিদ্ধান্ত নিই।’ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। বর্তমানে বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস ক্লাসের পরিবর্তে পূর্ণদিবস ক্লাস হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকবে। বিশ^বিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তক্রমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কিন্ডারগার্টেনসহ অন্যান্য বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যাও প্রায় ৬০ হাজার। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি স্কুল-কলেজ ছাড়াও ৩০ হাজারের ওপরে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৯ হাজারের মতো নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সাপ্তাহিক ছুটিই হবে শুক্র ও শনিবার।

যদিও আগে থেকেই দেশের বেশ কিছু পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরেজি মাধ্যমের সব স্কুল-কলেজ, শহরাঞ্চলের বেশির ভাগ নামীদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুক্র ও শনিবার দুদিন ছুটি ছিল। কেবলমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়গুলোতে সপ্তাহে এক দিন ছুটি প্রচলিত ছিল।

তবে আগামী বছর থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে। সেই শিক্ষাক্রমেও সপ্তাহে দুদিন ছুটি রাখা হয়েছিল; অর্থাৎ আগামী বছর থেকে এমনিতেই স্কুল-কলেজে দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটি চালু হতো। কিন্তু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে চার মাস আগে থেকেই তা কার্যকর হলো।

গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘এমনিতেই আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন করার পরিকল্পনা ছিল। সেটি অনুমোদন করেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। চলমান পরিস্থিতিতে এখন থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকবে। কেউ কেউ বলেছিলেন বৃহস্পতিবার বন্ধের কথা, কিন্তু আজকাল অনেক বাবা-মা কর্মজীবী, তাদের ছুটির দিনে সন্তানদের ছুটি হওয়া প্রয়োজন।’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময় পরিবর্তন হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের ক্লাসের সময় এখন পরিবর্তন হচ্ছে না। আপাতত সময় যেটা আছে, সেটাই থাকবে। বেশি অসুবিধা হলে সেটি আমরা বিবেচনা করব। আমরা এ মুহূর্তে এটি বদলাচ্ছি না।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুদিন বন্ধ থাকায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন যে পরিমাণ যানবাহন রাস্তায় বের হয় তার একটি বড় অংশ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনা-নেওয়ার কাজ করে। এক দিন ছুটি বাড়ানোয় সে চাপ কমবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও এক দিনের ব্যবহারের বিদ্যুৎ বাঁচবে।