২৩ চা বাগানের শ্রমিকদের কর্মবিরতি অব্যাহত

‘আমরা ডিসি-এসপি-ইউএনও কাউকে বিশ্বাস করি না। শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করি। তিনি যদি নিজের মুখে বলেন, তাহলে আমরা কাজে ফিরে যাব। তা না হলে ৩০০ টাকা মজুরি ছাড়া বাগানের কাজে যাব না। এর জন্য জীবন দিতে হলে দেব।’ গতকাল সোমবার দুপুরে চা শ্রমিকদের নেত্রী সনকা সাঁওতাল সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এর আগে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান চা শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন শ্রমিকরা।

হবিগঞ্জের লস্করপুর ভ্যালির ২৩টি চা বাগানের শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গতকাল কাজে যোগ দেননি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান। এর আগে সকাল ১১টার দিকে সেখানে যান চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ ভৌমিক ও থানার ওসি আলী আশরাফ। এ সময় তারা কাজে ফেরার আহ্বান জানালে শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। সকাল ১০টার দিকে চান্দপুর চা কারখানার সামনে লস্করপুর ভ্যালির বিভিন্ন বাগানের শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। জেলা প্রশাসক শ্রমিকদের  জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর শেষে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। আপাতত তারা যেন কাজে ফিরে যান। এ সময় জেলা প্রশাসককে শ্রমিক নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের মুখে আমাদের কাজে ফেরার কথা বলবেন না, ততক্ষণ তারা কাজে ফিরবেন না। চা শ্রমিক নেত্রী সনকা আরও বলেন, ‘শুধু প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে ভিডিও বার্তায় বললে আমরা কাজে ফিরব। আজ বললে আজই ফিরব। আমরা আজ ১৪ দিন ধরে কর্মবিরতি করছি ৩০০ টাকা মজুরির জন্য। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।’

চান্দপুর চা বাগানের শ্রমিক বীরেন তন্তুবায় বলেন, ‘এখন ১৪৫ টাকায় কাজে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ চুনারুঘাটের চান্দপুর চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সাধন সাঁওতাল বলেন, ‘চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করার আগে ভ্যালি কমিটি এবং প্রতিটি বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করার কথা। কিন্তু ইউনিয়নের নেতারা তা না করেই রাত ২টার দিকে চুক্তি করেছে। তাই আমরা কাজে ফিরব না।’

বাংলাদেশ চা কন্যা নারী সংগঠনের সভাপতি খায়রুন আক্তার বলেন, ‘আমাদের শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা রাতের আঁধারে গিয়ে হাত মিলিয়েছে। তাতেও লাভ হবে না। ৩০০ টাকা মজুরি ছাড়া কোনো শ্রমিক কাজে ফিরবে না। নেতারা রাতে চোরের মতো স্বাক্ষর করে এসেছে। আমরা এসব নেতাকে ধিক্কার জানাই। তাদের পেলে আমরা গণপিটুনি দেব।’

এর আগে গত রবিবার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে ৪ ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। বেলা ৩টার দিকে দুই দিনের আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নেন তারা। আলটিমেটাম অনুযায়ী, সোম ও মঙ্গলবার শ্রমিকরা কোনো ধরনের আন্দোলন-সংগ্রাম না করে নিজ নিজ বাগানে অবস্থান করবেন। ২৩ আগস্টের মধ্যে দাবি আদায় না হলে পরদিন আবারও তারা রাস্তায় নামবে। গত ৯ আগস্ট থেকে ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন চা শ্রমিকরা।