ভারতের কৃষকরা আবারও আন্দোলনে নেমেছেন। রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছেন পাঁচ হাজারেরও বেশি কৃষক। সড়কে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী সেøাগান দিয়েছেন তারা।
৯ মাস পরও মোদির দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় গত সোমবার থেকে দ্বিতীয় দফায় আন্দোলনে নামেন কৃষকরা। সংযুক্ত কৃষক মোর্চা, ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নসহ (বিকেইউ) দেশটির কয়েকটি কৃষক সংগঠনের ডাকে দিল্লিতে হাজির হয়েছেন পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের হাজার হাজার কৃষক। নানা
দাবি সংবলিত পতাকা হাতে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন তারা।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, সিএনএনের মতো গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী এবার কৃষক আন্দোলনে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস (এমএসপি) নির্ধারণে আইন করার দাবি জানানো হচ্ছে। এছাড়া এমএসপি নির্ধারণ কমিটির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, আগের আন্দোলনে হতাহত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ, কৃষকদের বিরুদ্ধে করা সরকারি মামলাগুলো প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
তবে এই আন্দোলন নিয়ে আপাতত নীরব ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। সিএনএন বলছে, ‘কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেননি।’ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনটি কৃষি বিলে সংশোধন করে আইনে পরিণত করে মোদি সরকার। সেই সংস্কার আইনে কৃষকদের স্বার্থের চেয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লাভবান হওয়ার শঙ্কা, কৃষকদের ভরসার এমএসপি না থাকায় ভারতব্যাপী শুরু হয় কৃষক আন্দোলন যা পরে দিল্লি অবরোধে রূপ নেয়। টানা এক বছর তীব্র গরম, শীত এবং কভিড-১৯ উপেক্ষা করে চলে সেই আন্দোলন। এরপর নরেন্দ্র মোদি ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের ঘোষণা দেন।