যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষার জন্য লাখো কলেজ শিক্ষার্থীর নেওয়া ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যে শিক্ষার্থীরা ঋণ করে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন এবং বর্তমানে বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের কম আয় করেন তাদের জন্য ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত শিক্ষাঋণ মাফ করা হয়েছে। আর নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের বেলায় এই সীমা ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত।
গতকাল বৃহস্পতিবার রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত বুধবার বাইডেন এই বহুল প্রত্যাশিত ঋণ মওকুফের ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন তিনি। তার এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বাইডেনের এই ঘোষণা নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। কিছু অর্থনীতিবিদের ধারণা, ঋণ মওকুফের এই পদক্ষেপ মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। রয়টার্স বলছে, ঋণ মওকুফ করার ফলে শত শত বিলিয়ন ডলার বাজারে ছড়িয়ে যাবে, যা দিয়ে বাড়ি কেনা বা অন্যান্য বড় ব্যয়ের দিকে গ্রাহকরা ঝুঁকতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, বাইডেনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির লড়াইয়ে একটি নতুন অসমতা যোগ করবে।
১০-২০ হাজার ডলার মওকুফেই সমালোচনার জোয়ার চলছে অথচ ডেমোক্র্যাটরা ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঋণ মাফ করতে বাইডেনকে তাগিদ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বাইডেন এতটা কমাননি।
এরপরও থেমে নেই বিরোধী রিপাবলিকানরা। তাদের প্রশ্ন, বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীর নেওয়া বিশাল অঙ্কের ঋণ মওকুফ করার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের আছে কিনা? জবাবে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জিন-পিয়েরে গণমাধ্যমকে বলেছেন, মহামারীর মতো জাতীয় জরুরি অবস্থার সময় আইনের অধীনে ঋণ ক্ষমা করার আইনি কর্র্তৃত্ব প্রশাসনের রয়েছে।
অবশ্য বুধবারই হোয়াইট হাউজে এ বিষয়ে নিজের যুক্তি তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই পদক্ষেপ সেসব পরিবারের জন্য যাদের এই সুবিধা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। বিশেষ করে যে মধ্যবিত্তরা করোনা মহামারীতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’
সমালোচনার জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘ঋণ মাফের এই পদক্ষেপের ফলে উচ্চ আয়ের কোনো পরিবারের লাভ হবে না। শ্রমজীবী আমেরিকান এবং মধ্যবিত্তদের সাহায্য করার জন্য এই পদক্ষেপে আমি অনুতপ্ত বোধ করছি না। বিশেষ করে সেই লোকদের কাছে নয় যারা ২ লাখ কোটি মার্কিন ডলার করছাড়ের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। যাতে মূলত ধনী আমেরিকানরা এবং বৃহত্তম করপোরেশনগুলোর উপকার হয়েছিল।’
এই মন্তব্যের মাধ্যমে বাইডেন মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে করছাড়ের যে আইন পাস হয়েছিল সেটিকে ইঙ্গিত করেন।