শরীয়তপুরে সার্ভার হ্যাক ৮০৮ ভুয়া জন্ম নিবন্ধন

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিঝারি ও ফতেহজঙ্গপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সার্ভার হ্যাক করে ৮০৮টি ভুয়া জন্ম নিবন্ধন তৈরির অভিযোগ উঠেছে। দুই ইউপির পক্ষ থেকে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর পাশাপাশি থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ দিন ধরে ওই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা জন্ম নিবন্ধন করাতে পারছে না।

ইউপি কার্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৫ আগস্ট বিঝারি ও ১৯ আগস্ট ফতেহজঙ্গপুর ইউনিয়ন পরিষদের সার্ভার হ্যাক হয়। এতে জন্ম নিবন্ধন করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়নবাসী।

নড়িয়া থানায় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সার্ভার হ্যাক করে বিঝারিতে ৩৯২টি ও ফতেজঙ্গপুরে ৪১৬টি অর্থাৎ ৮০৮টি ভুয়া জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে। জন্মসনদ ডাউনলোড করে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার ঠিকানা ব্যবহার করে ওই রেজিস্ট্রেশনগুলো করা হয়েছে।

বিঝারি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোলিনা নাসরিন বলেন, ‘এক অপরিচিত ব্যক্তি আমার মোবাইলে ইমুতে কল দিয়ে বলেন, আপনাদের জন্ম নিবন্ধন সার্ভার হ্যাক হয়েছে আপনি জানেন। পরে আমি সার্ভারে ঢুকে দেখি হ্যাক হয়েছে।’

ফতেহজঙ্গপুর ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন জুয়েল বলেন, ‘গত ১৯ আগস্ট সকালে আমার ইউনিয়নের জন্ম নিবন্ধন সার্ভার হ্যাক হয়। আমি তাৎক্ষণিক নড়িয়া থানায় অভিযোগ করি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাই।’

বিঝারি ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহাম্মেদ কাজী বলেন, ‘বর্তমানে আমার ইউনিয়নের জন্ম নিবন্ধন সার্ভার বন্ধ আছে। আমার ইউনিয়নের অনেকের জন্ম নিবন্ধন জরুরি দরকার। কিন্তু দিতে পারছি না।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শরীয়তপুরের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, ‘আমার ধারণা রোহিঙ্গাগোষ্ঠী যেকোনো উপায়ে সার্ভার হ্যাক করে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। যারা এ ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের অচিরেই যদি শনাক্ত করা না যায় তাহলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দাবি, দ্রুত হ্যাকারদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।’

নড়িয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিহার রায় বলেন, ‘ভুয়া জন্ম নিবন্ধন দিয়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবুও আমরা ওই সময়ের মধ্যে যে জন্ম নিবন্ধন হয়েছে তা যাচাই-বাছাই করব। নির্বাচন অফিসের কেউ সংশ্লিষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘দুটি ইউনিয়নের সার্ভার হ্যাক হয়েছে। তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানিয়েছি। ভুয়া রেজিস্ট্রেশনগুলো বাদ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’