কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনোয়ার হোসেন নামে এক আসামির মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় চলছে। গত ১১ আগস্ট ভোরে ওই আসামির মৃত্যু হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, হার্ট অ্যাটাকে আনোয়ারের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
তবে পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের পর চান্দিনা থানায় তাকে নির্যাতন করেছে পুলিশ।
জানা যায়, আনোয়ার হোসেন (৩৫) জেলার মুরাদনগর উপজেলার গান্ধ্রা এলাকার মৃত কেরামত আলীর ছেলে। গত ১৭ জুলাই রাতে চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া এলাকা থেকে তাকে ডাকাতি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসাবে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ জুলাই চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি ডাকাতি মামলায় আনোয়ার হোসেন, জসিম উদ্দিন, বশির ও খলিলকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে বশির এবং খলিলকে মুচলেকা নিয়ে স্থানীয়দের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আনোয়ারকে ১৮ জুলাই আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
গত ১১ আগস্ট ভোর রাতে হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম কমলের উপস্থিতিতে তার মরদেহের সুরতহাল করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাশ গ্রহণের সময় কিংবা তার পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলে পুলিশ জানায়।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আসাদুর রহমান জানান, ১৮ জুলাই আনোয়ারকে গ্রহণের সময় তার প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তার কোনো সমস্যা কিংবা অসুস্থতা আছে কিনা তাও জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। সে কোনো ধরনের অসুবিধার কথা বলেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জেলার জানান, ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় অন্য বন্দীদের সঙ্গে সে টিভি দেখে সুস্থ অবস্থায়ই ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু ভোর ৩টার দিকে বুকে ব্যথা অনুভব করলে অন্য বন্দীরা তাকে কারা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে আনোয়ারের পরিবার সাংবাদিকদের জানান, একটি সিএনজি চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসাবে আনোয়ার এবং তার ভাই জসিমকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের পর থানায় নিয়ে নির্যাতন করে পুলিশ।
মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিনুর রহমান জানান, ‘আনোয়ারকে ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তারের পর সার্কেল স্যার এবং ওসি স্যারের নির্দেশক্রমে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। থানায় নির্যাতনের অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। কোনো অসুস্থ আসামিকে আদালত এবং কারা কর্তৃপক্ষ কখনো গ্রহণ করে না’।
তিনি বলেন, তা ছাড়া তার পরিবারও তখন কোনো অভিযোগ করেনি। তারপর আমি বদলি হয়ে চান্দিনা থেকে চলে যাই। খবর নিয়ে জেনেছি, কারাগারে হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এখন কার ইন্ধনে এবং প্ররোচনায় তার পরিবার পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে সেটা বোধগম্য নয়।
চান্দিনা থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, আনোয়ারকে থানায় মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়। গভীর রাতে গ্রেপ্তারের পর সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।