হিন্দু নারীর মরদেহ সৎকার করলেন মুসলিমরা

ছয় বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভয়াবহ সেই সাম্প্রদায়িক হামলার কথা আজও ভুলেনি মানুষ। দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় তোলা সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে এখনো অনেকেই আঁতকে ওঠে। ওই ঘটনার কুশীলবরা অনেকেই এখন আড়ালে চলে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষের মাঝে ফিরেছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। গত বৃহস্পতিবার দেখা গেল আর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ওইদিন উপজেলার গোয়ালনগরে এক হিন্দু নারীর মরদেহ সৎকার করলেন গ্রামের মুসলমান যুবা-তরুণরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাটি অঞ্চল নামে খ্যাত গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে বসবাস করতেন পরশমণি সরকার নামের ৮০ বছর বয়সী এক হিন্দু নারী। তার আপন বলতে কেউ ছিল না। পরশমণি জীবন কাটিয়েছেন অতিকষ্টে, মানুষের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা চেয়ে নিয়ে। বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ মারা যান তিনি।  কিন্তু না ছিল তার কোনো স্বজন, না ছিল সৎকারের জন্য কোনো জমানো টাকা-পয়সা। তবে পরশমণির মৃত্যুর পর এগিয়ে আসেন গ্রামের যুবক এনায়েত হোসেন রনি, করিম হোসেন, হারুন মিয়া, মধু মিয়ারা। নিজেরা চাঁদা তুলে, পাশের গ্রামের হিন্দুদের ডেকে হিন্দু রীতিতেই শেষ করেন পরশমণি সরকারের শেষকৃত্যানুষ্ঠান।

এনায়েত হোসেন রনি ও হারুন মিয়া বলেন, আমরা মিলেমিশে থাকি। একে অন্যের বিপদে আপদে এগিয়ে যাই। একসঙ্গে উৎসব পালন করি। আমাদের মধ্যে ধর্ম কোনোদিন বিভেদ তৈরি করেনি। আমরা মানবিক মূল্যবোধ থেকে এ কাজটা করেছি। ছোট থেকে এভাবেই আমরা একসঙ্গে চলে বড় হয়েছি।