মানবাধিকার বা অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে জাতিসংঘের কোনো উদ্বেগ প্রকাশিত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে না, জাতিসংঘের কর্মকর্তা মিশেল ব্যাচেলেটের সর্বশেষ প্রতিবেদনেও তা প্রমাণিত হয়েছে।’
গতকাল শনিবার সকালে ঢাকায় স্থানীয় একটি হোটেলে ইনার হুইল ক্লাব আয়োজিত ‘পঞ্চম দক্ষিণ এশিয়া সম্মেলন’ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পাননি জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘অনেকেই অনেক কথা বলেন। আমি সব সময় বলে থাকি তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া কিছু বললে তা কেউ বিশ্বাস করে না।’
মিশেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী র্যাব কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলো কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের উক্তিটিই করেছি।’
আসাদুজ্জামান খান আরও বলেন, ‘মিশেল ব্যাচেলেট বাংলাদেশ সফরের সময় আমাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছেন। আমাদের কিছু প্রশ্ন আগেই দিয়েছিলেন। তার প্রশ্নের জবাবে ৭৬ জন গুমসহ অন্যান্য বিষয়ে ভিডিও প্রেজেন্টেশন দেখিয়েছিলাম এবং কোনদিন কী হয়েছে বিস্তারিত বিষয় তার কাছে তুলে ধরেছিলাম। এসব দেখার পর তিনি আমাদের আর কোনো প্রশ্ন করেননি। সব কিছু বিশ্লেষণ করে তিনি মতামত দিয়েছেন।’
মিশেল তার বিজ্ঞতা দেখিয়েছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে না বরং খুব সযত্ন সহকারে দেশ পরিচালনা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই কথাই তিনি (মিশেল) বারবার বলেছেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সফরে ব্যাচেলেট আরও অনেক সংস্থার সঙ্গে এবং বিরোধী দল, সুশীল সমাজের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা তাকে আরও একটি পরিসংখ্যান দেখিয়েছিলাম, ২০০৫ সালে বিএনপির ক্ষমতার শেষ বছরে কতজন নিখোঁজ হয়ে গেছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের একটা নথি। সেটাই আমি তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলাম। তিনি অত্যন্ত দক্ষ একজন নেতা। তার দেশে তিনি দুইবারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন। তার দক্ষতা, তার বিজ্ঞতা, তার দূরদর্শিতা অনেক অনেক ওপরে। কাজেই তিনি আমাদের সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যেসব তথ্য পেয়েছেন সেগুলো বিশ্লেষণ করে মতামত দিয়েছেন, যেটা আপনারা শুনছেন।’