সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল

শর্তসাপেক্ষে পুলিশ প্রধানের ভিসা জাতির জন্য অবমাননাকর

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বাংলাদেশের পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদকে যে ধরনের শর্ত সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিয়েছে তা বাংলাদেশের জন্য অবমাননাকর। সরকারের এই ধরনের দায়-দায়িত্বহীন আচরণের কারণে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।’ গতকাল শনিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতিসংঘের পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য বেনজীর আহমেদকে যুক্তরাষ্ট্র শর্ত সাপেক্ষে ভিসা প্রদান করায় জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার জতিসংঘকে যে ডেলিগেশনের তালিকা প্রদান করে সেখানে ইচ্ছাকৃত ভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হয়েছে। ভয়ংকর মানবাধিকার লংঘনের নির্দেশদাতাদের একজন বেনজীর আহমেদকে এই তালিকাভুক্ত করে সরকার এই সব মানবাধিকার লংঘনকারীদেরকে বৈধ্যতা প্রদান করার চেষ্টা করেছে। উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা জাতিসংঘের এই নির্দিষ্ট সম্মেলন ব্যতীত অন্য কোনো কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপব্যাখ্যা দিয়েছেন : ‘জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের যে রিপোর্ট দেয়া হয়েছে তাতে এমন কিছু বলা হয়নি যে বাংলাদেশ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং সত্যের অপলাপ করেছেন। ইউএস হিউম্যান রাইটসের যে রিপোর্ট সেই রিপোর্টে আজকে না; গত চার-পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো উঠে আসছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার রিপোর্টেও তা উঠে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক সম্মেলনে মিশেল ব্যাচেলেট পরিষ্কার করে সুনির্দিষ্ট করে বলেছেন যে, মানবাধিকার লঙ্ঘন চলছে এবং এটাও বলা হয়েছে যে, এভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন যদি চলতে থাকে এবং এর সঙ্গে যদি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কেউ জড়িত থাকেন সে বিষয়টা তারা উল্লেখ করেছেন। তাহলে সে ব্যাপারেও সেটাকে দেখার জন্য একটা সিস্টেম  তৈরি করা উচিত। সবশেষে গুরুত্বপূর্ণ যে কথা যেটা বলেছেন, এটার জন্য একটা সম্পূর্ণ স্বাধীন সংস্থা তৈরি করতে হবে যারা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তদন্ত করবে।’

এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ঢাকা সফরকালে পরিষ্কার করে বলে গেছেন। উনি সবশেষে বলেছেন, এই অবস্থা থেকে মুক্ত হতে  গেলে একটা স্বচ্ছ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার প্রয়োজনীয়তা আছে। উনি তদন্তের প্রস্তাব দিয়ে গেছেন এবং প্রয়োজনে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ এই তদন্তে সহায়তা করবে এটাও বলে গেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপির মিডিয়া সেলের শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শায়রুল কবির খান ও চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের শামসুদ্দিন দিদার।