চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনায় বাড়তি ব্যয় দেখিয়ে ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী বাবুলকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। তিন বছর আগে দায়ের হওয়া মামলাটিতে অভিযোগপত্র দাখিল করার সময় পর্যন্ত জামিনে ছিলেন তিনি।
গতকাল রবিবার সকালে মহানগর দায়রা জজ ও ¯েপশাল জজ ডা. বেগম জেবুননেছার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করা হয়। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
মহানগর পিপি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, একটি এমআরআই মেশিনের বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা হলেও চট্টগ্রাম জেনালের হাসপাতাল সেটি কিনে ৬ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৫ টাকায়। ৯৮ লাখ টাকার কালা ডপলার মেশিন কেনা হয় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায়। এভাবে বাজার মূল্যের চেয়ে দুই-তিনগুণ বেশি দাম দেখিয়ে মোট ৯ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৫ টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন দুদক সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম ১-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক।
দুদকের আইনজীবী কাজী সানোয়ার আহমেদ লাবলু বলেন, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনায় দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগপত্র সম্প্রতি আদালতে জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে। এরপর আসামি সরফরাজ খান চৌধুরী বাবুল স্থায়ী জামিনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত তার উপস্থিতিতে শুনানি করে সেটি খারিজ করে দেয় এবং আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. মো. আব্দুর রব, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি) ডা. মো. মইন উদ্দিন মজুমদার, সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. বিজন কুমার নাথ, যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কো¤পানির স্বত্বাধিকারী মো. জাহের উদ্দিন সরকার, মেসার্স আহম্মদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মুন্সী ফারুক হোসেন এবং এএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আফতাব আহমেদ।
২০১৪ সালে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জন্য যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে এ দুর্নীতি হয়েছিল বলে মামলার এজাহারে লেখা রয়েছে। ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জনের পাশাপাশি ওই সময় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন।