শপথ নিলেন নতুন ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু

আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পাবনা-১ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু। গতকাল রবিবার সংসদে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কে এম আবদুস সালাম শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন টুকু। চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী এ পদের জন্য তার নাম প্রস্তাব করেন। পরে ঢাকা-২ আসনের সরকারদলীয় সদস্য কামরুল ইসলাম এ প্রস্তাব সমর্থন করেন। এরপর স্পিকার ভোটে দিলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার স্থলাভিষিক্ত হলেন শামসুল হক টুকু।

শামসুল হক টুকু ২০০৯, ২০১৪ এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯-২০১৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি একই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া গত ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এতে ডেপুটি স্পিকারের পদটি শূন্য হয়।

কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক : গতকাল থেকে শুরু হয়েছে একাদশ সংসদের ১৯তম অধিবেশন। এ অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে। চলবে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৫টায় শুরু হবে অধিবেশন। গতকাল সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের কার্যকাল নির্ধারণ করা হয়।

কমিটির সভাপতি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য এবং সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক, গোলাম মোহাম্মদ কাদের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও নূর-ই-আলম চৌধুরী।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব কে এম আবদুস সালাম বৈঠক সঞ্চালনা করেন। এতে সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৩৭টি ও অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৯৮৬টিসহ ১ হাজার ২৩টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। বিধি-৬২-তে মুলতবি প্রস্তাবের সংখ্যা একটি ও বিধি-৭১-এ মনোযোগ আকর্ষণের নোটিস পাওয়া গেছে ৩৬টি। বেসরকারি সদস্যদের বিলের কোনো নোটিস পাওয়া যায়নি। আগে অনিষ্পন্ন ১০টি বেসরকারি বিলের মধ্যে গত সপ্তদশ অধিবেশনে একটি বিল উত্থাপিত হয়ে কমিটিতে পরীক্ষাধীন। গতকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত ১২টি সরকারি বিলের মধ্যে কমিটিতে পরীক্ষাধীন ৬টি, পাসের অপেক্ষায় ৩টি ও উত্থাপনের অপেক্ষায় ৩টি।