কাজে ফিরতে শুরু করেছেন চা শ্রমিকরা

দৈনিক মজুরি ৫০ টাকা বাড়ানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে কাজে ফিরতে শুরু করেছেন আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা। মজুরি বাড়ানোর দাবিতে টানা ১৯ দিনের কর্মবিরতির পর গতকাল রবিবার থেকে কাজে ফিরতে শুরু করেছেন তারা। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন বাগানে শুরু হয়েছে চা-পাতা উত্তোলন। তবে হবিগঞ্জসহ আরও কয়েকটি এলাকার শ্রমিকরা আজ থেকে কাজ শুরু করবেন।

দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে ৯ আগস্ট থেকে দিনে দুই ঘণ্টা করে চার দিনের কর্মবিরতির মাধ্যমে আন্দোলন শুরু করেন চা শ্রমিকরা। ১৯ আগস্ট থেকে শুরু করেন অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। কোথাও কোথাও সড়ক-রেলপথও অবরোধ করেন তারা। তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এর মধ্যে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধি, সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তার কয়েক দফায় বৈঠক হয়। তবে সেসব বৈঠকে কোনো ফলাফল আসেনি। মাঝে মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে মজুরি ২৫ টাকার বাড়ানোর বিষয় নিয়ে তৈরি হয় বিভক্তি। পরে অবশ্য আগের দাবিতেই অনড় থাকেন শ্রমিকরা। তারা জানান, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন তাই মেনে নেবেন তারা। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়। সেদিন শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

গতকাল আমাদের শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি জানান, সকাল ৯টার অনেক আগেই চা বাগানের শ্রমিকরা পাতা তুলতে শুরু করেন। সকাল থেকেই বাগানগুলোর কারখানাও চালু হয়।

ভাড়াউড়া চা শ্রমিক ঊষা হাজরা বলেন, পেটের দায়ে আন্দোলন করেছিলাম। আমাদের অনেকে অনেক মিথ্যা কথা বলেছে। অনেকে আন্দোলন বন্ধ করতে বলেছে। আমরা বলেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর কথা ছাড়া আমরা আন্দোলন বন্ধ করব না। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা ভাবেন। তিনি আমাদের জন্য ১৭০ টাকা মজুরি নির্ধারণ করে দিলেন। আমরা তার জন্য দোয়া করি।’

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব মেনে সাপ্তাহিক ছুটি থাকা সত্ত্বেও সবাই কাজে যোগ দিয়েছেন। চা বাগানের কারখানাগুলো চালু হয়েছে। কিছু চা বাগানে চা পাতা রাখার জায়গায় পুরোনো চা পাতা থাকায় কাজে যোগ দেয়নি। আর ছুটির দিন থাকায় কিছু চা বাগানে শ্রমিকরা যায়নি। সোমবার থেকে পুরোদমে কাজ হবে বলে চা বাগানগুলোতে।

এদিকে আমাদের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, আজ থেকে কাজে যোগ দেবেন জেলার চা শ্রমিকরা। তারা বলছেন, ‘রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কাজে ফেরেননি। সোমবার থেকে যথারীতি কাজে ফিরবেন। ’

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেণ পাল বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এতে হবিগঞ্জের ২৪টি বাগানের শ্রমিকেরা খুবই খুশি।’ বাগানের মালিক পক্ষ যদি চায়, তাহলে নগদ তলবে শ্রমিকেরা কাজে যেতে প্রস্তুত আছেন।’

বাংলাদেশ চা শ্রমিক নারী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সন্ধ্যা রানী ভৌমিক বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল ৩০০ টাকা মজুরি। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেহেতু ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, আমরা তাতেই খুশি।’

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি চা কোম্পানির একজন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার বলেছেন, ‘মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চা পাতা তোলা হয়। বর্তমান ভরা মৌসুমে শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে বাগানের বেশ ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে আড়াই রাউন্ড (প্রতি সপ্তাহে এক রাউন্ড) চা পাতা তোলা হয়নি। কুঁড়িগুলো শক্ত হয়ে যাওয়ায় ভালো মানের চা হবে না। এগুলো ছেঁটে দিতে হবে। ভালো কুঁড়ি পেতে আরও দুই-তিন সপ্তাহ লাগবে।’