ষোড়শ সংশোধনী মামলার রিভিউ শুনানি ২০ অক্টোবর

উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হচ্ছে। গতকাল রবিবার চেম্বার আদালতের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম আগামী ২০ অক্টোবর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করেন।

এই মামলার শুনানি করতে সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয় বলে জানান আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হরিদাস পাল। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় শুনানি করতে একটি আবেদন করেছিল। আজ (গতকাল) চেম্বার আদালত ২০ অক্টোবর ফুল বেঞ্চে শুনানির জন্য ধার্য করেছেন।’

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে রিভিউ আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেই থেকে সাড়ে ৪ বছরের বেশি সময় ধরে আলোচিত এই মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে বিচারাধীন রয়েছে।

১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা  ছিল জাতীয় সংসদের কাছে। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৭৭ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে ন্যস্ত করা হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা ফের জাতীয় সংসদে ন্যস্ত হয়। ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর উচ্চ আদালতের ৯ জন আইনজীবীর পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। প্রাথমিক শুনানি শেষে ৯ নভেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটি কেন বাতিল ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দেয় হাইকোর্ট।

রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর (ইতিমধ্যে অবসরে) নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের একটি বৃহৎ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ও অবৈধ বলে রায় দেয়। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ১০ জন অ্যামিকাস কিউরির (আদালতকে আইনি সহায়তাকারী) বক্তব্য ও শুনানি শেষে ওই বছরের ৩ জুলাই হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে রায় দেয় তখনকার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। একই বছরের ১ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।