ছোট পোশাক বিতর্ক : অবশেষে মুখ খুললেন তসলিমা

বেশ ক'দিন ধরে পোশাক ও দেশীয় সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্ক চলছে সোশাল মিডিয়ায়। বেশ কয়েকটি উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ড বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলোতে নানা রকম উত্তপ্ত তর্ক-বিতর্ক চলছে।

বাংলাদেশে যেকোনো ঘটনায় বরাবরই সরব লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এই পোশাক বিতর্ক শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তিনি মুখ খুললেন। নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই ইস্যু এবং দেশীয় সংস্কৃতির বিষয়ে নিজের খোলমেলা মত প্রকাশ করলেন তিনি।

পাঠকদের জন্য তসলিমা নাসরিসনের সেই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো...

'কিছুদিন আগে বাংলাদেশের কিছু বোরখাওয়ালি মেয়ে আর কিছু পশ্চিমা পোশাক পরা ছেলে পোস্টার নিয়ে দাঁড়িয়েছে ফুটপাতে। পোস্টারে যা লেখা, তা হলো, দেশের লোকেরা যেন বিদেশি পোশাক নয়, দেশি পোশাক পরে, বিদেশি সংস্কৃতি নয়, দেশি সংস্কৃতি মেনে চলে, ছোট পোশাক নয়, বড় পোশাক পরে।'

'পোস্টার যারা ধরে আছে, তারা কিন্তু বিদেশি পোশাকই পরে আছে। মেয়েরা পরে আছে মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমির সংস্কৃতির পোশাক আর ছেলেরা পরে আছে ইউরোপের পোশাক।'

'দেশি পোশাক পরতে হলে তো ছেলেমেয়ে উভয়কেই ছোট পোশাক পরতে হয়। আমাদের পূর্ব পুরুষেরা শুধু নেংটি পরত। পূর্ব নারীরা বক্ষবন্ধনীও পরত না, তারাও ওই নেংটিই পরত। নেংটি থেকেই ধুতি এলো, অন্তরীয় উত্তরীয় কোমরবন্ধ এলো। দেশি পোশাক মানে কিছু সুতো, মালা বা কাপড়ের টুকরো দিয়ে যৌনাঙ্গ ঢেকে রাখা।'

'বিদেশিরা আমাদের অঞ্চলে এসে কাপড় চড়িয়েছে আমাদের পূর্ব নারী-পুরুষের গায়ে। আজ উপমহাদেশে যে পোশাকই দেখি, তার খুব কমই দেশি পোশাক। ধুতিই একসময় শাড়ি হয়েছে, বিদেশিরাই ব্লাউজ আর পেটিকোট পরিয়েছে মেয়েদের। বাংলাদেশের বাঙালি মুসলমানরা মানুক বা না-মানুক, তাদের দেশি পোশাক হলো হিন্দুদের পোশাক, তাদের দেশি সংস্কৃতি মানে হিন্দুদের সংস্কৃতি। তাদের পূর্ব নারী-পুরুষ ছিল এই ভারতবর্ষেরই হিন্দু নারী-পুরুষ।'