‘তুলে নেয়ার’ ১০ মাস পর মেহেদি হাসানের ফিরে আসার খবর

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ি থেকে ‘তুলে নেয়ার’ ১০ মাস পর মেহেদী হাসান ডলার (৩০) নামে এক ব্যবসায়ী ফিরে এসেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ফিরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় থানার ওসিও তার ফিরে আসার খবর পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি শনিবার একাই বাড়ি ফেরেন বলে খবর। 

তবে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য পরিবারের কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি। দেশ রূপান্তরের ময়মনসিংহ প্রতিনিধির পক্ষ থেকে বারবার ফোন করলেও ডলারের স্ত্রী তা রিসিভ করেননি।

জানা গেছে, ব্যবসার কাজে বাড়ি থেকে বের হয়ে গত বছরের নভেম্বরে অপহরণের শিকার হন ডলার। ১০ মাস পর ফিরে আসেন বাড়িতে। তবে এতদিন কোথায়, কেমন ছিলেন, কিছু বলতে পারছেন না।

সোমবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় মেহেদী হাসান ডলারের ছোটভাই রিজভী আহমেদ নিশাত বাংলা ট্রিবিউনকে তার ফিরে আসার তথ্য নিশ্চিত করেন।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৬ নভেম্বর উপজেলার ছনকান্দা রোডের বটতলা এলাকায় নিজের ফিশারি প্রজেক্ট দেখতে যান মেহেদী। সেখান থেকে ফেরার পথে অপহরণের শিকার হন তিনি। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার জোরবাড়িয়া এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা লাল মাহমুদের ছেলে মেহেদী হাসান ডলার (৩০)।

ওই ঘটনার পর তার পরিবার জানিয়েছিল, ঘটনার দিন একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস এবং দুটি মোটরসাইকেলযোগে একদল লোক মেহেদীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন স্থানে মেহেদীর সন্ধান করেও পাওয়া যায়নি। গত বছরের ৮ নভেম্বর মেহেদীর বাবা ফুলবাড়িয়া থানায় জিডি করেন। মেহেদীর সন্ধান চেয়ে ফুলপুর ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করেন স্ত্রী মোনতাহেনা পিংকি।

ফিরে আসার বিষয়ে ডলারের ভাই রিজভী বলেন, ‘শনিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজেই হেঁটে বাসায় আসেন মেহেদী। তবে কোথায়-কীভাবে ছিলেন কিছুই বলতে পারছেন না। কোথা থেকে এসেছেন তাও বলতে পারছেন না। তার চিকিৎসা চলছে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আমরাও আপাতত প্রশ্ন করছি না।’

ডলার ও পিংকী দম্পতির তিন সন্তান। দুই মেয়ে ও এক ছেলে বাবাকে ফিরে পেয়ে আনন্দিত বলে পরিবার জানায়।

ডলারের ফেরত আসার বিষয়ে ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ সোমবার রাতে দেশ রূপান্তরের ময়মনসিংহ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরাও শুনেছি তিনি ফিরে এসেছেন। এ খবরে তার বাসায় পুলিশ পাঠানো হয়। তবে বাসায় তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের কেউ বাসায় নেই। পরিবারের অন্য সদস্যদের ফোন দিয়েছিলাম। কেউ ফোন ধরছেন না। যেহেতু নিখোঁজের জিডি হয়েছে, ফলে আমাদের তদন্ত চালিয়ে যেতে হবে।’