মোংলা বন্দরের পর এবার চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য আরেকটি ট্রায়াল রানের (পরীক্ষামূলক চলাচল) আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত। চলতি সপ্তাহেই চট্টগ্রাম বন্দরে এই ট্রায়াল রান অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।গত রবিবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন একটি চিঠিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে ট্রায়াল রানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজের একটি ট্রায়াল রান অনুষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে একটি কনটেইনার তামাবিল-ডাউকি রুট ব্যবহার করে মেঘালয়ে এবং অন্যটি বিবির বাজার-শ্রীমন্তপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে ত্রিপুরায় পরিবহন করা হয়েছিল। এরপর চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে কলকাতা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে নিয়মিত পণ্য পরিবহন শুরু করতে আয়োজনের উদ্যোগ নিল ভারত।
টাটা স্টিলের কাছ থেকে ২৫ টন টিএমটি বার রড কনটেইনারে বোঝাই করে আগামীকাল ৩১ আগস্ট কলকাতার শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দর ত্যাগ করবে ভারতীয় জাহাজ এমভি ট্রান্স সামুদেরা। জাহাজটি তিন-চার দিন পর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কনটেইনারটি চট্টগ্রাম-শেওলা স্থলবন্দর ব্যবহার করে ভারতের আসাম রাজ্যে পাঠানো হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে কলকাতা অভিমুখে কনটেইনারটি ফেরত যাওয়ার ট্রায়ালও কয়েক দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। ফিরতি কার্গোতে ডাউকি এলসি স্টেশন থেকে একটি কনটেইনারে লোড করা হবে এবং শেষ গন্তব্য কলকাতায় যাওয়ার জন্য তামাবিল এলসি স্টেশন হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করবে।
২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহ করতে দুই দেশ চুক্তিবদ্ধ হয়। এই চুক্তির অধীনে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে জাহাজ চালানো হয়েছিল ২০২০ সালের জুলাই মাসে। যেখানে লোহার রড এবং ডালবোঝাই চারটি কনটেইনার কলকাতার হলদিয়া বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে সড়কপথে ত্রিপুরা ও আসামে পাঠানো হয়।
কলকাতা থেকে উত্তরে গুয়াহাটি হয়ে আগরতলা যেতে ভারতীয় যানবাহনগুলোকে ১ হাজার ৬৫০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়। এখন ভারত যদি চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন করে, তবে দূরত্ব কয়েক শ কিলোমিটার কমে প্রয়োজনীয় সময় এবং পরিবহন খরচ কমে আসবে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য পরিবহনসংক্রান্ত চুক্তি পূর্ণরূপে বাস্তবায়নে ভারতের আগ্রহের এটিই প্রধান কারণ।
চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের দুটি বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ডকুমেন্ট প্রসেসিং ফি (প্রতি চালান) হিসেবে ৩০ টাকা, ট্রান্সশিপমেন্ট ফি (প্রতি টন) ২০ টাকা, নিরাপত্তা চার্জ (প্রতি টন) হিসেবে ১০০ টাকা, এসকর্ট চার্জ (প্রতি টন) ৫০ টাকা দিতে হবে। এ ছাড়া বিবিধ প্রশাসনিক চার্জ (প্রতি টন) ১০০ টাকা, কনটেইনার স্ক্যানিং ফি (প্রতি কনটেইনার) ২৫৪ টাকা।