সম্রাটের জামিন বাতিল চেয়ে ফের হাইকোর্টে দুদক

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে বিচারিক আদালতের দেওয়া জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চে দুদকের পক্ষে একটি রিভিশন আবেদন করেন সংস্থার আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘আদালত আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে। আমরা আজই (গতকাল) শুনানি চেয়েছিলাম। হাইকোর্ট বলেছে, শুনানির জন্য এটি আগামীকালের (আজ) কার্যতালিকায় থাকবে।’

আবেদনের যুক্তিতে দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘উনি (ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট) আইসিইউ’র কথা বলে জামিন নিয়েছেন। কিন্তু তিনি এখন সেখানে নেই। তার মানে তিনি ভুল তথ্য দিয়ে জামিন নিয়েছেন। আর অর্থ পাচারের মামলায় কোন প্রক্রিয়ায় জামিন হবে বা হবে না এ নিয়ে আইনি বিধান আছে। কিন্তু সেই প্রসিডিং নিয়ে আমরা আপত্তি তুলেছি।’

গত ২২ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ সম্রাটের উপস্থিতিতে তার পাসপোর্ট জমা দেওয়া, আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশে না যাওয়ার শর্তে জামিনের আদেশ দেয়। কারা তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সম্রাট গত শুক্রবার দুপুরে হাসপাতাল ছাড়েন। এরপর তার অনুসারীদের নিয়ে ধানম-ি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

মাদক, অর্থপাচার ও অস্ত্র আইনের তিন মামলায় জামিনের পর গত ১১ মে দুদকের মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্তি পান সম্রাট। বিচারিক আদালতের এ আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। গত ১৮ মে হাইকোর্ট সম্রাটের জামিন বাতিল করে আদেশের অনুলিপি পাওয়া সাপেক্ষে তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। আদেশে বলা হয়, অসুস্থতা বিবেচনা বললেও এ সংক্রান্ত কোনো স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন যাচাই না করে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। এরপর ২৪ মে বিচারিক আদালত আত্মসমর্পণের পর ফের তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ হয়। ক্যাসিনো কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর সম্রাটকে সহযোগী এনামুল হক আরমানসহ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। দুদকের মামলার তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।