আকরাম খানের বাসার পেছনে পড়ে ছিল গৃহকর্মীর মরদেহ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আকরাম খানের বাসার এক গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। গত রবিবার রাতে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসের তিন নম্বর রোডে দুটি বাড়ির মাঝখানে পড়ে থাকা অবস্থায় ওই গৃহকর্মীর নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম সাহিদা আক্তার (২৫)। বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে।

সাহিদার মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই ইউসুফ আলী বাদী হয়ে কাফরুল থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। তবে সাহিদা আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে তা গতকাল সোমবার পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে কাফরুল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রবিবার রাত ১১টার দিকে ডিওএইচএস তিন নম্বর রোডের দুটি ভবনের মাঝে নিচে পড়ে ছিল সাহিদার নিথর দেহ। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’

সাহিদার বাঁ হাত ভাঙা এবং শরীরে কিছু জখম ছিল জানিয়ে ওসি আরও বলেন, ‘ছয়তলা ভবনের পাঁচ ও ছয়তলা নিয়ে ডুপ্লেক্স বাসায় থাকেন আকরাম খান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছয়তলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে মারা যান সাহিদা। মরদেহ বাসার পেছনে পাওয়া যায়। পেছনেও আরেকটি ভবন আছে। দুই ভবনের মাঝে পড়ে ছিল মরদেহ।’

সাহিদার ছোট ভাই ইউসুফ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রবিবার বিকেল ৫টার দিকে আপুর সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। কিন্তু আপুর ফোনে সমস্যা থাকায় বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আপু কিছু একটা বলতে চাচ্ছিল আমাকে। পরে আরও দুইবার ফোন করে, কিন্তু আমি রিসিভ করতে পারিনি।’

তিনি জানান, পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সাহিদা দ্বিতীয়। সাহিদার বয়স যখন চার তখন তার মা মারা যান। পরে তাদের বাবা আবার বিয়ে করেন। ছোটবেলা থেকেই আকরাম খানের বাসায় কাজ করতেন সাহিদা। সর্বশেষ মাসে সাত হাজার টাকা বেতন পেতেন। সাহিদার বিয়ের জন্য পাত্র খোঁজা হচ্ছিল।

সাহিদা তার বাসায় ১৪ বছর ধরে কাজ করত বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আকরাম খান। তিনি জানান, রবিবার তার স্ত্রী ও মেয়ে বাইরে গিয়েছিল। বাসায় খেলা দেখছিলেন তিনি। বাসায় গৃহকর্মী মোট চারজন। স্ত্রী ও মেয়ে ফেরার পর একজনকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পরে অনেক খোঁজার পর বাসার পেছনে সাহিদাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে ঘটনাটি জানান তিনি। এছাড়া খবর পেয়ে সাহিদার ভাই ও আত্মীয়স্বজন ঢাকায় আসে। 

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের জন্য গতকাল সাহিদার মরদেহ নেওয়া হয় চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে।