চা শ্রমিকদের আন্দোলনে ক্ষতি ৪২০ কোটি টাকা

চা শ্রমিকদের টানা তিন সপ্তাহের আন্দোলনে প্রতিদিন ২০ কোটি টাকা করে ক্ষতি হয়েছে। সে হিসাবে ২১ দিনে ৪২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে চা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতির এ তথ্য জানান চা সংসদের নেতারা।

তারা বলেন, আগস্টে আমাদের চা উৎপাদনের সর্বোৎকৃষ্ট সময়। মোট উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশ ভাদ্র মাসে তোলা হয়। এর ক্ষতিপূরণ বলে শেষ করা যাবে না। এর ক্ষতি আমাদের পুরো বছর ধরে টানতে হবে। বার্ষিক চা উৎপাদন কমে যাবে।

কেদারপুর চা কোম্পানির পরিচালক নিহাদ কবীরের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম।

শাহ আলম বলেন, চা শিল্পকে অন্য শিল্পের মতো দেখার সুযোগ নেই। এখানে ১২০ টাকার সঙ্গে অন্য অনেক সুবিধা দেওয়া হয়। এখন তো ১৭০ টাকা করা হয়েছে। ২ টাকা কেজিতে চাল-আটা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলে প্রায় গড় মজুরি ৫০০ টাকার ওপরে যায়। কেউ কেউ এর বেশিও আয় করেন। চা বাগানে নারী-পুরুষের সমান সুবিধা প্রদান করা হয়। চা শিল্পে অর্ধেকের বেশি নারী শ্রমিক।

কমিটির সদস্য ওয়াহিদুল হক বলেন, ‘আমরা ১ কেজি চা কিনি ২০০ থেকে ২০২ টাকায়। প্রতি কাপ চায়ে মালিকরা ৪৫ পয়সা পান। বাকিটা সাপ্লাই চেইনে যায়। ১ কেজি চায়ে ৪০০-এর বেশি কাপ চা হয়। চা না খেলে দেশ ও শ্রমিকদের ক্ষতি হবে। ২০ বছর আগের সঙ্গে মেলালে এখন আমরা অনেক পরিবর্তন করেছি। আমাদের ২০০ বছরের যে ইতিহাস, সেটা তো একদিনেই পরিবর্তন সম্ভব নয়। চা শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে ফিরে গেছে। তাদের কোনো ফোর্স করা হয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে উৎপাদিত চায়ের বার্ষিক মূল্যমান প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ হিসেবে প্রতি কেজি চায়ের উৎপাদন খরচ ২০২ টাকার মতো। কিন্তু প্রতি কেজি চায়ের নিলাম মূল্য ২০০ টাকা মাত্র। গত দশ বছরে শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে সর্বাধিক ৭৩ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং গড় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ। এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে কর্মবিরতির মতো সিদ্ধান্ত চা শিল্পের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে পড়েছে।

তারা মনে করেন, চা শ্রমিক,  জনসাধারণসহ সবার প্রচেষ্টা ছাড়া এই শিল্পে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। চা শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই দেশে ২০২১ সালে চায়ের রেকর্ড ফলন হয়েছে, যার পরিমাণ ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজিরও বেশি। সারা বিশে^ চা উৎপাদনে দশম স্থানে আছে বাংলাদেশ।