গুম-খুনের রাজনীতি শুরু করেছিল জিয়া : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে আজ গুম-খুনের কথা বলা হয়, ভোট কারচুপির কথা বলা হয় কিন্তু এ দেশে গুম-খুন, ভোট কারচুপির শুরু করেছিল জিয়াউর রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাত্তরের ১৫ আগস্ট পরিবারের শহীদ সদস্যদের স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় ১৫ আগস্ট মা-বাবা হারানো যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও তার ভাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে কাছে ডাকেন এবং পিতা-মাতা হারানোর বেদনাতুর স্মৃতিচারণ করেন। ‘আয় কাছে আয়’ বলে পরশ ও তাপসকে ডেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ওরা বড় হয়ে গেছে। ৫ বছরের পরশ ও ৩ বছরের তাপস, বাবা-মায়ের লাশ গুলি খেয়ে পড়ে আছে। দুটি বাচ্চা পাশে চিৎকার করছে, বাবা ওঠো-মা ওঠো। কেউ সাড়া দেয়নি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি, যারা ১৫ আগস্টের খুনি, তাদের স্বজন ও কিছু অপরাধী দেশের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র করছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

বিএনপি সরকারে থাকার সময়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কী হয়েছিল ঢাকা শহরে? বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, পানির জন্য হাহাকার। সারের জন্য মাঠে নামায় ১৮ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে গেলাম, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে সে উৎপাদন কমিয়ে গেছে।’

জ¦ালানি তেলের দাম কমানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তেল পাচার বন্ধ হওয়ায় লিটারে ৫ টাকা দাম কমানো হয়েছে।’ আমরা কখনো ধার করে ঘি খাই না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যে ঋণ তাতে আমরা কখনো কারও কাছে আটকে যাব না। বাংলাদেশ সেই অবস্থায় নেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে আমরা সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছি। এটা না করলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় আরও সমস্যায় পড়তে হতে পারে। অপচয় রোধ করতে হবে। সীমিত করতে হবে সবকিছু। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে পৃথিবী আরও ভয়াবহ অবস্থায় যাবে। নিজেদের যতটুকু জায়গা আছে, কাজে লাগাতে হবে, নিজের খাদ্যের জোগান যেন নিশ্চিত করা যায়।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ পরিকল্পনা অনুযায়ী নেওয়া। যেসব প্রকল্প মানুষের কাজে লাগবে, দেশের কল্যাণে আসবে, ফিডব্যাক আসবে এমন প্রকল্পই নিয়েছি।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যে (খালেদা জিয়া) আমাকে খুন করতে চেয়েছে, আমার বাবা-মা-ভাইদের হত্যার সঙ্গে জড়িত; তার জন্য যথেষ্ট দয়া দেখানো হয়েছে। যে আমার হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে, নির্যাতন করেছে; তার জন্য এর বেশি দয়া দেখানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’