কারখানার মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, গুলিবিদ্ধ ৩

সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে খাগান এলাকায় একটি কারখানার অংশীদারত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হলে তাদের উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

বুধবার সন্ধ্যায় সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খাগান এলাকার মানারাত ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস সংলগ্ন সিম সিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে কারখানায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচটি শটগান ও নয় রাউন্ড গুলিসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে।

গুলিবিদ্ধ তিনজনের মধ্যে একজন হলেন মোহাম্মদ রিপন (৪০)। তিনি ওই কারখানার ফ্লোর ইনচার্জ। তবে বাকিদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায় নি।

কারখানার কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা জানায়, কারখানাটির মালিক সিদ্দিকুর রহমান প্রবাসে থেকে পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন তার বন্ধু অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনিসকে। এ সুযোগে আনিস ওই কারখানার বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি কারখানার মালিক সিদ্দিকুর রহমান জানতে পেরে তার বন্ধুর কাছে কারখানার আয়-ব্যয়ের হিসাব চান। পরে আয় ও ব্যয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়- আনিস বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাই তাকে কারখানার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় মালিকের লোকজন।

বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার তাইজুল ইসলাম বলেন, 'কারখানাটির মালিক বিদেশে থাকেন। এটি পরিচালনার জন্য তিনি তার বন্ধু অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনিসকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কারখানার দায়িত্ব থেকে আনিস সাহেবকে সরিয়ে দেন মালিক। বুধবার বিকেলে আনিস সাহেব ১০-১২ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে কারখানায় প্রবেশ করে তিনজনকে গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ রিপনকে গুরুতর অবস্থায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটকে রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার এক কর্মকর্তা জানান, আনিস সাহেবকে কারখানা থেকে বের করে দেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন ধরনের জটিলতার সৃষ্টি করতে থাকেন। গত তিন দিন যাবত এ ঘটনায় বিরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম মণ্ডল কারখানায় আনাগোনা করেছেন। বুধবার বিকেলে হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে গোলাগুলি শুরু করে। এ ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ রিপনকে গুরুতর আহত অবস্থায় এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। বাকি দুজনকে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

কারখানার সুপারভাইজার মামুন বলেন, কারখানায় গত ১ সপ্তাহ ধরে ঝামেলা চলছে। বুধবার কারখানায় আগের চেয়ারম্যান এসে গুলি করে। আমার ফ্লোর ইনচার্জের পায়ে গুলি লেগেছে। আমি তাকে নিয়ে এনাম মেডিকেলে এসেছি। 
এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ ফ্লোর ইনচার্জ রিপনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলতে পারেন নি।

এ বিষয়ে জানতে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনিসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দিদার হোসেন বলেন, কারখানায় গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

তবে পাঁচটি শটগান ও নয় রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।