এক হাজার টাকায় সিফাত হত্যায় অংশ নেন মেহেতাব: পুলিশ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাদ্রাসা ছাত্র সিফাত মিয়া (১৩) হত্যায় এক হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে অংশ নেন নির্মাণশ্রমিক মেহেতাব।

বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তার মেহেতাব টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল আলমের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে এই হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাইদ এই তথ্য জানিয়েছেন।

মেহেতাব তার জবানবন্দিতে বলেন, একই সঙ্গে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করার সুবাদে সিফতের প্রতিবেশী হিরন তার বন্ধু। বন্ধু হিসেবেই হিরন সিফাতকে হত্যার পরিকল্পনার কথা তাকে জানান।

আগস্ট মাসের ১৮ তারিখে হিরন ও তার নানা আবু তালেব সিদ্দিকী তালে বাড়ির পাশের খালে জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। ওই সময় সিফাত ব্রিজ থেকে লাফিয়ে পানিতে পড়ছিলেন। মাছ ধরায় সমস্যা হয় বলে হিরন সিফাতকে লাফ দিতে বারণ করেন। এক পর্যায় হিরন ক্ষিপ্ত হয়ে সিফাতকে বেধম মারধর করেন।

এই ঘটনায় ২১ আগস্ট গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে হিরনকে দশ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২০টি জুতাপেটা করা হয়। এই ঘটনায় হিরন ক্ষিপ্ত হয়। অপমানের প্রতিশোধ নিতে সিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি ও তার নানা।

২৯ আগস্ট সিফাত তার এক বন্ধুকে নিয়ে বংশাই রোড রেলক্রসিং এলাকায় চটপটি খেতে যায়। এ সময় এক হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া করা মেহেতাব সিফাতকে ডেকে নিয়ে যায়।

কিছু দূরে হিরন ও তার নানা আবু তালেব সিদ্দিকী এবং পার্শ্ববর্তী ধৈঞ্চা ক্ষেতে আরও দুইজন অপেক্ষা করছিলেন। পাঁচজন মিলে ওই ধৈঞ্চা ক্ষেতে সিফাতকে নির্মমভাবে হত্যা করে বলে মেহেতাব জানান।