ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে চলা যুদ্ধে সমানভাবে অংশ নিচ্ছেন দেশটির আপামর জনগণ। পিছিয়ে নেই সংখ্যালঘু মুসলিমরাও। লড়াইয়ের পাশাপাশি মুসলমানদের অনেকে স্বেচ্ছাসেবী হয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের মানুষদের মানবিক সহায়তা দিচ্ছেন। কেন তারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন দেশকে রুশমুক্ত করতে? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
বিপন্নের পাশে ইমাম
আলি খাদজালি। জন্ম ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে। এটি রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। খারকিভে এক মসজিদে ইমামতি করেন আলি। চলতি বছরে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর ইমামতির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনীয়দের মানবিক সহায়তা দিয়ে চলেছেন তিনি। এ ছাড়া দুই পক্ষের লড়াইয়ে বিধ্বস্ত এলাকা থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার কাজও করছেন ৩০ বছর বয়সী আলি। তিনি অবশ্য একা নন, তার সঙ্গে রয়েছেন আরও পাঁচ স্বেচ্ছাসেবী। আলির মা ইউক্রেনীয় আর বাবা সিরীয়। ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় সিরিয়ায়। একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তুরস্কের মতো রাশিয়াও সিরিয়া গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। গত ১১ বছরেও এই যুদ্ধ থামানো যায়নি। যুদ্ধ শুরুর আগে সিরিয়ায় নিয়মিত বেড়াতে যেতেন আলি। এক দশকের বেশি সময় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের কারণে তার আর দেশটিতে যাওয়া হয়নি। টানা যুদ্ধে সিরিয়ার অনেক অঞ্চল একেবারে বিধ্বস্ত। অন্যদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর প্রতিরোধের মুখে খারকিভ থেকে রুশ সেনারা চলে যেতে বাধ্য হলেও অনবরত বোমাবর্ষণে শহরটির বেশ কয়েকটি এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আলি বলেন, ‘ইউক্রেন আমার নানার বাড়ি আর সিরিয়া দাদার বাড়ি। এই দুই দেশই রাশিয়ার আগ্রাসনে বিধ্বস্ত।’
২০১৪ সালে ইউক্রেনের রুশপন্থি প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে দেশটির লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে ইয়ানুকোভিচের নির্দেশে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে শতাধিক নিহত ও হাজার হাজার মানুষ আহত হয়। ওই ঘটনার পর প্রেসিডেন্টের পদ হারান ইয়ানুকোভিচ। তার ক্ষমতাচ্যুতির পরপরই ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে রাশিয়া সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হাতে অস্ত্র তুলে নেয়। শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরুর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে ইমাম হয়েছিলেন আলি খাদজালি। দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর তার মনে হয়েছিল, ওই অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা অল্পসংখ্যক মুসলমান সেনাদের তার সহযোগিতা করা উচিত আর এর মাধ্যমে দেশের সেবা করা সম্ভব। সেনাদের ধর্মীয় উপদেশ ও মানসিক সহযোগিতা দেওয়া শুরু করেন আলি। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে মানবাধিকার নিয়েও আলাপ-আলোচনা করেন তিনি। আলি বলেন, ‘সেনাদের সাহায্য করা ধীরে ধীরে আমার কর্তব্যের অপরিহার্য অংশ হয়ে পড়ে। হতে পারে এসব বিষয়ে কথা বলা একজন ইমামের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।’ চলতি বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আলির দায়িত্ব-কর্তব্যের পরিধি আরও বিস্তৃত করে। যুদ্ধ চলছে এমন এলাকাগুলোতে তার বিচরণ দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘যেসব মানুষের সাহায্য দরকার, তাদের একটি তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে আমরা তাদের সঙ্গে দেখা করি। হয়তো কোনো বয়স্ক ব্যক্তির ওষুধের প্রয়োজন বা কারোর বাজার ফুরিয়ে গেছে। আমরা সেসব তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি। যে পরিবার আমাদের সাহায্য পেয়েছে, তাদের কাছে আমাদের ফোন নম্বর রয়েছে। ওই পরিবারের কাছ থেকে আমাদের নম্বর সাহায্য দরকার অন্য পরিবারগুলো নিচ্ছে। এভাবে যতটুকু পারা যায়, আমরা বিপন্নদের পাশে দাঁড়াচ্ছি।’
৪ কোটি ৪০ লাখ জনসংখ্যার দেশ ইউক্রেনে মুসলমানদের হার মাত্র এক শতাংশ। তা সত্ত্বেও দেশটিতে রাশিয়া হামলা চালানোর পর অনেক মুসলমান যুদ্ধে যোগ দেয়। ইউক্রেনের মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর রাশিয়ার দীর্ঘ অবিচারের ইতিহাস প্রধানত এর কারণ। ইউক্রেনের মুসলমান জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই জাতিতে ক্রিমিয়ার তাতার ও তুর্কির সুন্নি মুসলমান। যেসব মুসলমান আজ রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়ছে, তাদের কাছে একই সঙ্গে এটি মাতৃভূমি ইউক্রেনের উপদ্বীপ ক্রিমিয়াতে ফেরার লড়াই।
নির্যাতিত তাতার
একসময় ভ্রাম্যমাণ বণিক ও ধর্মপ্রচারকদের হাত ধরে ইউক্রেনে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব ঘটে। হাতেগোনা কয়েকজন মুসলমান দেশটিতে ধর্ম চর্চা করে আসছিল। ১৪৪১ থেকে ১৭৮৩ সাল পর্যন্ত ক্রিমিয়ান তাতাররা ক্রিমিয়ান খানাটে নামে একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করে। সেই সময় ইসলাম ওই অঞ্চলের রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ইউক্রেনে ইসলাম ধর্মের দীর্ঘ ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও গত শতাব্দীতে ব্যাপক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হন দেশটির মুসলমানরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা জোসেফ স্ট্যালিন নাৎসিদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ এনে জোর করে ওই অঞ্চলের অনেক মানুষকে বিতাড়িত করেন। এই অনেকের মধ্যে ক্রিমিয়ান তাতার ও চেচেন মুসলমানরাও ছিলেন। সে সময় এদের বেশির ভাগেরই ঠাঁই হয় উজবেকিস্তানে। দেশ ছাড়ার সময় হাজার হাজার ক্রিমিয়ান তাতার পথে, ক্যাম্প ও যৌথ খামারে খাদ্যের অভাবে, রোগে ভুগে মারা যান। এই চেচেন ও তাতাররা আজ বদলা নিতে ইউক্রেনের পক্ষে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
চল্লিশের দশকে ক্রিমিয়া থেকে যেসব পরিবারকে উজবেকিস্তানে পাঠানো হয়, তাদের মধ্যে ছিল ইসা আকায়েভের পরিবারও। ৫৭ বছর বয়সী ইসা বর্তমানে ইউক্রেনে একটি স্বেচ্ছাসেবী ইউনিটের কমান্ডার। তিনি বলেন, ‘উজবেকিস্তানে বড় হই। ১০ বছর বয়সে ইয়ং পাইওনিয়ার্স নামের এক শিশু সংগঠনের উৎসাহী সদস্য ছিলাম আমি। ওই সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের কমিউনিজমের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। একবার সংগঠনের উদ্যোগে ক্রিমিয়ায় সামার ক্যাম্পে গিয়েছিলাম। ওই প্রথম আমার মা-বাবার জন্মভূমি দেখার সৌভাগ্য হয়। যাই হোক, ক্যাম্পে আমাকে শেখানো হয়, ক্রিমিয়ান তাতার মুসলমানদের ঐতিহ্য বলতে আসলে কিছু নেই। বাড়ি ফিরে এটি আমার মাকে বললে তিনি মর্মাহত হন। ক্রিমিয়া থেকে উজবেকিস্তানে বিতাড়িত অনেক পরিবার তাদের সাম্প্রদায়িক নির্বাসনের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে চাইত না, চেপে যেত। আমার মা-ও তাদের মধ্যে ছিলেন। নির্বাসনের সময়কার ট্রমা তাদের তাড়িয়ে বেড়ায় দীর্ঘদিন। সেই ট্রমা পরের প্রজন্মের কাছে গোপন রাখতে চাইতেন তারা। ক্রিমিয়ান তাতাররা মনে করতেন, তাদের যে ইতিহাস কখনো অনুমোদন পায়নি, তা নিয়ে আলোচনা করে নিজেদের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করার কিছু নেই।’ তবে ইসার দাদি হয়তো দীর্ঘদিন সত্য গোপন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাই তিনি একদিন নাতি ইসাকে ডেকে তাদের সঙ্গে ক্রিমিয়ায় যেসব অন্যায় হয়েছে, সব বলে দেন। দাদির কাছ থেকে নিজের সম্প্রদায়ের হৃদয়বিদারক ইতিহাস জেনে বিমর্ষ হয়ে পড়েন ইসা। ইয়ং পাইওনিয়ার্স তাকে গলায় পরার জন্য একটি লাল রঙের কলার দিয়েছিল। সংগঠনের অন্য সব শিশুর মতো ইসাও এটি গর্বের সঙ্গে পরতেন। সেই লাল কলারটিকে একবার তার দাদি ‘সোভিয়েত কলার’ বলেছিলেন। এটি শোনার পর ইসা তার দাদির সামনে কখনো আর সেই কলার পরেননি। ইসা বলেন, ‘আমার দাদি প্রায়ই ক্রিমিয়ার সৌন্দর্য, এর প্রকৃতি ও সমুদ্রতীরের কথা বলতে বলতে নস্টালজিক হয়ে যেতেন।’
ক্রিমিয়া স্কোয়াড
এ বছর রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পরপরই একটি ভিডিও প্রকাশ করেন ইসা। ভিডিওটিতে তিনি মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে যোগ না দেয়। ইসা দ্রুত যোদ্ধাদের নিয়ে একটি দল গড়ে তোলেন, যার নাম দেওয়া হয় ক্রিমিয়া স্কোয়াড। এই দলে শুরুতে ১৫ সদস্য ছিল। পরে সদস্যসংখ্যা বেড়ে ৫০ হয়। ক্রিমিয়া স্কোয়াডের বেশির ভাগ সদস্যই ক্রিমিয়ান তাতার মুসলমান। ইসা বলেন, ‘আমাদের কাজ মূলত কোনো এলাকায় শত্রু অবস্থান করছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা, সদ্য দখলমুক্ত অঞ্চলে যদি রুশ সেনা থেকে থাকে, তাহলে তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা ও চেকপয়েন্ট পরিচালনা করা।’ চলতি বছরে মার্চের শেষের দিকে যখন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশ অঞ্চল থেকে প্রতিরোধের মুখে রুশ বাহিনী সরে যেতে শুরু করে, তখন ইসা পরিচালিত ক্রিমিয়া স্কোয়াডই প্রথম মতিজিন গ্রামে প্রবেশ করে। তারা সেখানে রুশ বাহিনীর নির্যাতনে নিহত ইউক্রেনীয়দের গণকবরের সন্ধান পান। নিহতদের মধ্যে মতিজিন গ্রাম পরিষদের প্রধানও ছিলেন। গ্রামের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। কেবল তাকে নয়, তার স্বামী ও ছেলেকেও নির্মমভাবে হত্যা করে রাশিয়ার সেনাবাহিনী। ইসা বলেন, ‘মতিজিন গ্রামে বনের ভেতর রুশ বাহিনীর কেউ রয়েছে কি না, তা খুঁজতে গিয়ে গণকবর দেখতে পান ক্রিমিয়া স্কোয়াডের সদস্যরা। আমাদের এক যোদ্ধা একদিন বনে হাঁটার সময় একটি হাত দেখতে পায়। পা দিয়ে গাছের পাতা সরাতে সরাতে পুরো মরদেহ তার চোখে পড়ে। এভাবে আরও কয়েকজনের মরদেহ বনের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।’
ইউক্রেনের আরেক মুসলিম নাগরিক ৪৩ বছর বয়সী সাইদ ইসমাগিলভ। থাকেন বুচা শহরে। এই শহরে রুশ বাহিনী কয়েক মাস আগে নারকীয় তাণ্ডব চালায়। সাইদের বাড়ি ছিল দোনেৎস্ক অঞ্চলে। রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ওই অঞ্চল দখল করলে ২০১৪ সালে বুচা শহরে চলে যান তিনি। সেখানে একপর্যায়ে ইউক্রেনের সুন্নি সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতায় পরিণত হন সাইদ। যুদ্ধ শুরু হলে ইউক্রেনের টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ফোর্সে যোগ দেন তিনি। সাইদ বলেন, ‘রণক্ষেত্র থেকে যোজন যোজন দূরে থেকে চোখ বন্ধ করে প্রার্থনা করার চাইতে আমি এখন যা করছি, তার মাধ্যমে দেশের আরও বেশি সেবা করা সম্ভব বলে মনে করি। বিশ্বের সব মুসলমানের প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনকে তথ্য ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে।’
ঐক্যের শক্তি
ইউক্রেনের মুসলমানদের বড় অংশই মনে করে, দেশটিতে ধর্মীয় সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা আগের চেয়ে বেড়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের মুসলমানদের দাঁড়ানোর পেছনে এই কারণ দুটিও উল্লেখযোগ্য। ইসা বলেন, ‘ইউক্রেনীয়রা কেবল স্বাধীনতা অক্ষুণœ রাখার জন্যই লড়াই করছে না, নাগরিক সম্মান ও গণতন্ত্র বিষয়ক চিন্তা ও কর্মকাণ্ড যাতে হুমকিতে না পড়ে, তার জন্যও লড়ছে।’ সাইদ বলেন, ‘ইউক্রেন কোনো ত্রুটিহীন দেশ নয়। বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের মানুষের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক সৃষ্টিতে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে দেশটিকে। তবে এখানকার মুসলমানরা জানেন, রুশ আগ্রাসনের অর্থ কী। রাশিয়া যুদ্ধে জিতলে তাদের কপালে কী জুটবে। রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়ায় মুসলমানরা গুম হচ্ছে, তাদের কারাগারে আটকে রাখা হচ্ছে। একই ধরনের ঘটনা যে এখানেও ঘটবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’
ইউক্রেনের মুসলমানরা মনে করেন, চলমান যুদ্ধ ঐক্যবদ্ধ সমাজের শক্তিকে সামনে নিয়ে এসেছে। এটি জনগণকে এক করেছে। ক্রিমিয়ান তাতারদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়-অবিচারের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা আগের চেয়ে বেড়েছে। ২৬ বছর বয়সী আন্না ইসমন্ত বলেন, ‘একজোট হলেই কেবল আমরা জয়ী হব এবং বেঁচে থাকব, অন্যথায় নয়। ঐক্যবদ্ধ কেন, কীভাবে হতে হয়, তা ইউক্রেনীয়রা জানত না। যুদ্ধ শুরুর পর তারা এটির ঘাটতি টের পায়। প্রতিটি ঘরের দরজায় দরজায় যখন আগ্রাসন কড়া নাড়ে, যুদ্ধ দিনকে দিন অসহ্য হয়ে ওঠে, তখনই ইউক্রেনীয়রা বুঝতে পারে, দেরি হলেও খুব বেশি দেরি হয়নি, এখনই তাদের এক হতে হবে। তারা আজ ঐক্যবদ্ধ। একটি দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি এই ঐক্য। যুগে যুগে শাসকরা জনগণের ঐক্যকে ভয় পেয়ে আসছে। তাই তারা নানা ছুতায় মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে অত্যাচার-জুলুম জারি রাখে। তারা ইতিহাস ভুলে যায়। তারা ভুলে যায়, মানুষ জাগলে এমন কোনো শক্তি নেই, যা তাদের পরাস্ত করতে পারবে। রাশিয়ার মতো পরাক্রমশালী দেশকেও একদিন এই সত্য মানতে হবে।’