ভোট জালিয়াতি মামলায় সু চির ৩ বছরের কারাদণ্ড

গৃহবন্দি থাকা মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশটির একটি আদালত নির্বাচনে জালিয়াতির মামলায় সু চিকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং এই কারাদণ্ড দেয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স। শান্তিতে নোবেলজয়ী ৭৬ বছর বয়সী অং সান সু চির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় এক ডজনের বেশি মামলা দায়ের করেছে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী দেশটির জান্তা সরকার। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। রাজধানী নেপিদোর জান্তানিয়ন্ত্রিত আদালতেই সেসব মামলার বিচার চলছে। এখন পর্যন্ত রায় ঘোষণা করা বিভিন্ন মামলায় অং সান সু চিকে ১৭ বছরেরও বেশি করাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। সু চি অবশ্য বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে মিথ্যা বলে দাবি করে এসেছেন। ২০২০ সালের নভেম্বর মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। তবে ওই নির্বাচনে সু চি কারচুপি করেছেন বলে শুক্রবার রায় দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। রয়টার্স বলছে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় মিয়ানমারের একটি সূত্র পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, সশ্রম কারাদণ্ড বা রায়ে ‘কঠোর পরিশ্রমের’ বিষয়ে যে কথা বলা হয়েছে তার অর্থ ঠিক কী তা এখনো স্পষ্ট নয়। সু চির পাশাপাশি মিয়ানমারের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং সহ-আসামি উইন মিন্তকেও একই সাজা দিয়েছে আদালত।

অবশ্য ক্ষমতাসীন সামরিক পরিষদের একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। জান্তা বলছে, সু চিকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। বন্দি করা হয় গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি ও তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) বিভিন্ন স্তরের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে।