বিএনপির বিক্ষোভে দুই জেলায় বাধা সংঘর্ষে আহত ২১০

বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেই চলেছে। সপ্তাহখানেকের বেশি সময়ের এই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবারও দেশের দুটি জেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সহিংসতায় কমপক্ষে ২১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বিএনপি-পুলিশ-আওয়ামী লীগ ত্রিমুখী সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দিনাজপুরের খানসামায় বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে গতকাল বেলা ১১টার দিকে পৌর সদরের সৈয়দগাঁও চৌরাস্তা এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পৌর বাজারের দিকে এলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। এ সংবাদ পেয়ে পুরো উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয়। তিন ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এ ঘটনায় তিন পক্ষের দুই শতাধিক আহত হয়েছেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন বলেন, ‘জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা দেশে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাকুন্দিয়াতে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। কিন্তু পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’

কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আল আমিন বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের অনুমতি ছিল না। মিছিল নিয়ে পৌর বাজারের দিকে তারা আসতে চাইলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে আমাদের বেশ কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন।’

ঠাকুরগাঁওয়ে গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০ : ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। গতকাল বিকেলে সদর উপজেলার রুহিয়ায় চৌরাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির অফিসের সামনে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সভা শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কর্ণফুলী মোড়ে যান বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপির ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে মিছিল বের হয়। পরে দুটি মিছিল মুখোমুখি হলে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় রাবার বুলেটে দুই ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনসারুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

রুহিয়া থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, ‘দুটি দল একই সময় সভা ডেকেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি দলকে দুটি সময়ের কথা বলা হয়েছিল। তবে একই সময়ে উপস্থিত হয়ে তারা এই অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।’

খানসামায় বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ : খানসামা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিলে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের পর পন্ড হয়ে যায় সমাবেশ। উপজেলার পাকেরহাটে গতকাল সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বিক্ষোভ মিছিল শেষে বাইপাস চৌধুরীর চাতালে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরী বিএসসির সভাপতিত্বে সমাবেশ চলছিল। একপর্যায়ে সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শিল্পপতি হাফিজুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে তর্কবিতর্ক ও মারামারি শুরু হয়। এতে ছাত্রদল ও বিএনপির কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। পরে জ্যেষ্ঠ নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধিরা