সরকারি কর্মচারী গ্রেপ্তার

অনুমতির বিধান বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের আগে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে সরকারি কর্মচারী আইনের ৪১ (১) ধারা সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ রায় প্রকাশ হয়।

গত ২৫ আগস্ট বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ ধারার বৈধতা নিয়ে দেওয়া রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেয়। ১৭ পৃষ্ঠার এ রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক। তাতে একমত পোষণ করেন কনিষ্ঠ বিচারক। গত বুধবার রায়টি স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন। চেম্বার আদালত এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এরপর গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চ আগামী ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত রায় স্থগিত করে। একই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করতে নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর সরকারি চাকরি আইন করে সরকার। এই আইনের ৪১ (১) ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সময় এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ফৌজদারি মামলায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণের আগে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। আইনের ওই ধারাসহ সাতটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও তা বাতিল কিংবা প্রত্যাহার চেয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন এইচআরপিবি’র (হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ) পক্ষে রিট আবেদন হয়। আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর ওই বিধানের বৈধতা নিয়ে রুল দেয় হাইকোর্ট।