টাঙ্গাইলের গোপালপুরে একতা রাইস মিলের হোপার (চাল রাখার বক্স) ভেঙে তিনজন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি বলেন, গোপালপুরে একতা রাই তিন শ্রমিক নিহতের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল হাশেমকে প্রধান করে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমেটি ঘটন করা হয়েছে।
তদন্ত দলটি আগামী ৫ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। তদন্ত শেষে ওই চাল মিলটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে হবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশ পরিবহনের জন্য তিন পরিবারকে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
রবিবার রাত ১০টার দিকে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকেরা হলেন- কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাচগাছি ইউনিয়নের গোবিন্দপুর ওয়াপদা বাজার এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে আরিফ (২০), করিম মোল্লার ছেলে নুরুল ইসলাম (২৬) ও নুর মোহাম্মদের ছেলে নাঈমুল ইসলাম (৩২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জান যায়, প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতে ৬ জন শ্রমিকেরা একতা রাইস মিলে কাজ করছিলেন। এর মধ্যে মিলের ৩ জন শ্রমিক হোপার (চাল রাখার বক্স) থেকে চাল বস্তায় ভরে সেলাই করছিলেন।
হঠাৎ করেই বিকট শব্দে মিলের এক হাজার মন চাল ভর্তি হোপারটি ভেঙে ওই শ্রমিকদের ওপর পড়ে। এ সময় স্টিলের তৈরি হোপার ও এক হাজার মণ চালের নিচে তারা চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট তাদেরকে উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোপালপুর ফায়ার সার্ভিসের অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি ওজনের চাল রাখায় হোপারটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রানা বলেন, এ ঘটনায় গোপালপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। লাশ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।