বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রায় প্রতিদিনই ব্যাংকগুলোকে কোনো না কোনো নির্দেশনা দিচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার সিএফএল লাইটের পরিবর্তে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাতি ব্যবহারের পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বুধবার এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনা দিয়ে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয় সিঁড়ি, করিডোর, ওয়েটিং রুমে ‘মোশন সেন্সর’নির্ভর লাইটিংয়ের ব্যবহার করতে হবে। এতে বিদ্যুতের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার রোধ করা যাবে। কাজের ধরন বিবেচনায় প্রযোজ্য লাইট লোড নির্বাচন করতে হবে এবং দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকগুলোকে সিএফএল লাইটের পরিবর্তে অধিকতর জ্বালানিসাশ্রয়ী এলইডি লাইট ব্যবহার ও দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় কমাতে সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ, ব্যাংকের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র নিয়ে বলা হয়, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সেট তাপমাত্রা ২৫ সেন্টিগ্রেড বা এর ওপরে রাখতে হবে। তাপপ্রবাহ রোধে জানালায় পর্দা ব্যবহার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র প্রতি বছর কমপক্ষে একবার সার্ভিসিং করা, পাইপলাইন বা ডাকের তাপ নিরোধক ইনসুলেশন ব্যবস্থা বছরে একবার এবং লিকেজ প্রতি মাসে একবার পরীক্ষা করা।
অকেজো শীতাতপ যন্ত্রের বিপরীতে নতুন যন্ত্র ক্রয়ের সময় ইইআর/সিওপি সমৃদ্ধ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র কেনা যেতে পারে। আবার জ্বালানি দক্ষ ইনভার্টার টেকনোলজি সংবলিত রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশনায়।
এতে আরও বলা হয়, নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার সম্পূর্ণ বা আংশিক (বিএনবিসি) অনুযায়ী চাহিদার ন্যূনতম ৩ শতাংশ সরবরাহের জন্য অফিসের রুফটপে অথবা অফিস প্রাঙ্গণের ফাঁকা জায়গায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্রেডা প্রণীত নেট মিটারিং গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহারে সবসময় তদারকির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।