সন্দ্বীপে শিশুদের হাতে অটোরিকশার স্টিয়ারিং

১১ বছরের শিশু মো. জাহেদ। প্রতিদিন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হয় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার প্রধান ও ব্যস্ততম গুপ্তছড়া সড়কে। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলার এনাম নাহার মোড় এলাকায় কথা হয় জাহেদের সঙ্গে।

যে সময় থাকার কথা বিদ্যালয়ের আনন্দঘন পরিবেশে, সে সময় রাস্তায় অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছে কেন জানতে চাইলে জাহেদ জানায়, স্থানীয় রহমতপুর অনন্তময়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত সে। করোনার সময় স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। কিছুদিন পর স্কুল খুললেও আবার বন্ধ হয়ে যায়। বারবার স্কুল খোলে আর বন্ধ হয়। এজন্য পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছে সে।

জাহেদ আরও জানায়, মা-বা ও ছোট ভাইসহ তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা চারজন। বাবা একসময় জাহাজে কাজ করতেন। এখন বেকার। কথা হয় জাহেদের বাবা মো. খোকনের সঙ্গে। এ বয়সে সন্তান স্কুলে না গিয়ে অটোরিকশা চালায় কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছেলেকে পড়ালেখা করানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে করে না। কাজ শেখার জন্য ওয়ার্কশপেও দিয়েছি। সেখানেও থাকে না। এখন অটোরিকশা চালায়।’

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার প্রধান দুটি সড়ক গুপ্তছড়া ও দেলোয়ার খাঁ সড়কে চলাচলের সময় প্রতিদিনই দেখা মেলে জাহেদের মতো অন্তত ২০ জন শিশুর কচি-হাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্টিয়ারিং। সম্প্রতি সন্দ্বীপ পৌরসভার বাগেরহাট এলাকায় কথা হয় আটোরিকশাচালক আজিমের (১৪) সঙ্গে। আজিম জানায়, নিয়মিত পড়াশোনা করলে সে এখন নবম শ্রেণিতে পড়ত। তার মা প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে এক পা ও এক হাত অবশ হয়ে যাওয়ার পর তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। বড় ভাই রাজমিস্ত্রির কাজ করে, বাবা কৃষক।

সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকার ২০ জন শিশু অটোরিকশা চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অধিকাংশই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। করোনার কারণে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ ছিল। পরে স্কুল খুললেও পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে তারা আর স্কুলে ফিরে যেতে পারেনি। করোনাকালীন সন্দ্বীপের ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১২টি মাদ্রাসার কতজন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে তার সঠিক হিসাব নেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে।

করোনাকালীন ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় স্কুলে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কোনো উদ্যোগ আছে কি না জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল আজম বলেন, ‘ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার জন্য ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশ, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে মোটিভেশনাল ওয়ার্ক, স্টুডেন্ট ক্যাবিনেটের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ, টিউশন ফি মওকুফসহ স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফজলুল করিম বলেন, ‘এ বয়সে অটোরিকশা চালানোর মতো কাজে জড়িয়ে পড়ায় তাদের গ্রোথ হ্যাম্পার (স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত) হবে।’

এ বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুরা অটোরিকশা চালাতে পারবে না। আমরা অভিযান পরিচালনা করছি।’