কুমিল্লার মুরাদনগরে জন্মনিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে সিভিল সার্জনের সার্টিফিকেট চাওয়ায় ইউপি সচিবকে এক সেবাপ্রত্যাশী ঘুষি মেরেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় সেবাপ্রত্যাশী ও ইউনিয়ন পরিষদের লোকজনের মারামারিতে দুপক্ষের চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার ধামঘর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের করিম হোসেন তার ছোট ভাই আবদুর রহিম, বোন সালেহা বেগম ও ভাগিনাকে নিয়ে পুরনো জন্মনিবন্ধন থেকে বয়স বাড়িয়ে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের সার্টিফিকেটসহ একটি আবেদন নিয়ে ইউপি সচিবের কাছে যান। এ সময় সিভিল সার্জনের সার্টিফিকেট নিয়ে আসার পরামর্শ দেন ইউপি সচিব নাইম সরকার। তখন সেবাপ্রত্যাশী করিম হোসেন ও ইউপি সচিব নাইম সরকারের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ইউপি সচিব নাইম সরকারকে ঘুষি মারেন করিম হোসেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে উপস্থিত ইউপি সদস্য রাসেল মিয়া স্থানীয় লোকজনসহ করিম হোসেন ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে আটকাতে গেলে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এতে ইউপি সদস্য রাসেল মিয়া, স্থানীয় আরাফাত চৌধুরী, সেবাপ্রত্যাশী করিম হোসেন ও তার ছোট ভাই আহত হন।
ধামঘর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব নাইম সরকার বলেন, ইউপি সদস্য রাসেল মিয়াসহ উপস্থিত সেবা প্রত্যাশীরা আমাকে বাঁচাতে এলে তাদেরও মারধর করে করিম হোসেন ও তার লোকজন।
সেবাপ্রত্যাশী করিম হোসেন বলেন, নানা অজুহাতে আমাকে তিন মাস ঘোরানোর পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্টিফিকেটসহ আবেদন নিয়ে গেলে সচিব আমাকে জানান কুমিল্লা থেকে (সিভিল সার্জনের) কাগজ আনতে হবে। একপর্যায়ে আমার হাতে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। হঠাৎ পেছন থেকে রাসেল মেম্বার আমাকে মারধর শুরু করলে আমি গিয়ে সচিবের ওপরে পড়ি। আমি উনাকে মারধর করিনি।
ধামঘর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, করিম হোসেন কোনো প্রকার সিরিয়াল না মানায় এ ঘটনা ঘটেছে। তাদের কেউ ইচ্ছাকৃত মারধর করেনি।
মুরাদনগর থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।