অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের অনলাইনে বদলি কার্যক্রম ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘আবেদন শুরুর পর একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে আবেদন ছাড়া অন্য কোনোভাবেই বদলির সুযোগ থাকবে না। তবে আপাতত ঢাকাসহ ১১টি মহানগরের বদলি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২২ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার নানা আয়োজনের মাধ্যমে দেশে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করা হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘সাক্ষরতা শিখন ক্ষেত্রের প্রসার’।

আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইনে যে বদলির কার্যক্রম শুরু করেছিলাম, তাতে ভালো ফল পেয়েছি। অনলাইনে বদলি কার্যক্রমে সফলতা পাওয়ায় আমরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (টিও) ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (এটিও) বদলিও অনলাইনে করতে চাই। সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২০ সালের তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, ‘দেশে এখন সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সরকারের নানামুখী কর্মসূচির কারণে আগের তুলনায় সাক্ষরতার হার বেড়েছে। তবে এখনো ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী নিরক্ষর। তাদের সাক্ষর করতে না পারলে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

গত ২৭ জুলাই জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ২০২২ সালে বাংলাদেশে মোট (পুরুষ ও নারী) সাক্ষরতার হার (৭ বছর ও তদূর্ধ্ব) ৭৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

সাংবাদিকরা সেই তথ্য তুলে ধরলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব বলেন, ‘২০২২ সালের স্টাডি প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তাই আমরা সেই তথ্য অনুসারে সাক্ষরতার হার বলছি না। তবে এই স্টাডি শেষ হলে আমরা সাক্ষরতার হারের প্রকৃত চিত্র জানতে পারব।’

সাক্ষরতার হার বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে সিনিয়র সচিব বরেন, ‘আমরা বড় পরিকল্পনা করছি। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোকে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে আমরা এগোতে চাইছি। একই সঙ্গে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাও যুক্ত করা হবে। আশা করছি, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যেই আমরা দেশকে শতভাগ নিরক্ষরমুক্ত করতে পারব।’