সরকারের হিংস্র আচরণ ধিক্কৃত হচ্ছে : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘রাষ্ট্র এখন সর্বগ্রাসী সন্ত্রাসী রূপ ধারণ করেছে। জুলুমবাজ আওয়ামী সরকারের কোনো বৈধতা নেই বলেই সন্ত্রাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও দেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। সরকারের হিংস্ররূপী আচরণের জন্য দেশে-বিদেশে সর্বত্রই ধিকৃত হচ্ছে।’

গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রতিদিন শহর থেকে গ্রাম সবখানেই বিএনপিসহ সাধারণ মানুষের রক্তে হাত ভেজাচ্ছে তারা। তাদের অবৈধ অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে কেউ যাতে মাথা উঁচু করে কথা বলতে না পারে  সেজন্য তারা অস্ত্র নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সবাইকে ভয় দেখানোর জন্য। আওয়ামী লীগ দেশে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে তারা তাদের বিরোধী লোকজনদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে অথবা মিথ্যা মামলায় কারান্তরীণ করছে। এখন বিরোধী মত, মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং জনগণের স্বাভাবিক চলাচল চরম হুমকির মুখে।’

তিনি বলেন, ‘২০১৮-এর মতো আর একটি ভোট চুরির নির্বাচন করে তারা আবারও ক্ষমতায় যেতে চায় বলেই বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমননীতি কার্যকর করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ (বুধবার) রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকা থেকে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদারকে সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বিবৃতিতে অবিলম্বে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদারের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করেন।

আন্দোলন জোরদারের সিদ্ধান্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির : সকল হত্যাকা-, জ¦ালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব ‘রাজবন্দি’কে মুক্তির দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। গতকাল বুধবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  ‘যেসব জেলায় পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আক্রমণ চালিয়েছে সেসব জেলায় আহত নেতাকর্মীদের দেখভাল করার জন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাঠানো হবে। দলের কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে নিহত, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে প্রতিটি ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে লিগ্যাল সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি।’

গত সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভার সিদ্ধান্ত জানাতে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা এবং তা স্থায়ী কমিটিতে উপস্থাপন করে অনুমোদন নেওয়ার জন্য ড. আব্দুল মঈন খানকে প্রধান করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় মিয়ানমার বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশ সীমান্তে গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দেশের চরম অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রচার চালাতে জনগণের ১৩২ কোটি টাকার অর্থ অপচয়ের এলইডি প্রকল্প গ্রহণের তীব্র সমালোচনা করা হয়। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করেন, শুধু দুর্নীতি ও নির্বাচনের পূর্বে ফায়দা নেওয়ার জন্য এই ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।’

ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।