পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী, বাতব্যথা, প্যারালাইসিস প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি, অটিজমে আক্রান্ত শিশু থেকে শুরু করে সব রোগের ক্ষেত্রেই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার নানামাত্রিক ভূমিকা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনেস্কোর তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতি ১০ জনে একজন কোনো না কোনো প্রকার প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত। দেশে মোট জনগোষ্ঠীর ১০ শতাংশই প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত।
৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘অস্টিওআর্থারাইটিস চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি সবচেয়ে কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি’। বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে সিআরপি সাভারে আয়োজিত হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান, আয়োজক প্রতিষ্ঠান সিরআরপির নির্বাহী পরিচালক ড. মো. সোহরাব হোসেন, সিআরপির ফিজিওথেরাপি বিভাগের প্রধান মোহাম্মাদ আনোয়ার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আলোচনায় বক্তারা ফিজিওথেরাপির গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ডা. এরশাদ আলী (প্রভাষক , বি আইচ পি আই , সি আর পি) বলেন, ‘স্বাভাবিক, সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনের জন্য ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার বিকল্প নেই। বিভিন্ন সমীক্ষা মতে বিশ্বে বছরে প্রায় ৩-৪ কোটি মানুষের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা দরকার হয়। একমাত্র সম্মিলিত চিকিৎসা পদ্ধতিই সর্বোচ্চ ফলাফল দিতে পারে। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য মতে, দেশে প্রতিবন্ধিতাই আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় দশ ভাগ। তাদের জন্য ফিজিওথেরাপিস্টরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আরও কিছু গবেষণাতে দেখা যাচ্ছে, দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু সরকারিভাবে চিকিৎসা সেবার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। দেশ ও জাতির উন্নয়নে ফিজিওথেরাপি শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রসার সময়ের দাবি।
তিনি আরো বলেন, ‘সারা বিশ্বে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকগণ মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমে এক ছাতার নিচে কাজ করে যাচ্ছে। এতে রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়। আধুনিক চিকিৎসা বাবস্থায় এই পেশার চিকিৎসকরা স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে হাড়, মাংশপেশী ও বাত ব্যাথাসহ বিভিন্ন জটিলতায় চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি শিক্ষার মান এখন বিশ্ব সমাদৃত। সর্বজনীন স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন সেবা নিশ্চিতে ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদেরকে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কউন্সিলের অধীনে পেশাগত নিবন্ধন ও পিএসসির অধীনে প্রথম শ্রেণির পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ বাস্তবায়ন অতীব জরুরি।’