সিরাজগঞ্জে ছাদ থেকে পড়ে নিহত ভারতীয় শিক্ষার্থী খুশবু মঞ্জুর (২২) মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এটি হত্যা না আত্মহত্যা অথবা নিছক দুর্ঘটনা কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজের এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশের একাধিক দল।
গত বুধবার দুপুরে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুশবু মঞ্জুরের মৃত্যু হয়। এর আগে মঙ্গলবার সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শিক্ষা সফরে গিয়ে তিনি পিপিডি গেস্ট হাউসের ছাদ থেকে পড়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। খুশবু ভারতের কাশ্মীরের বাসিন্দা মঞ্জুর আহমেদ তারাইয়ের মেয়ে। খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।
খুশবু মঞ্জুরের মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার রাতেই এনায়েতপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। ভারতীয় এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ওসি আনিছুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাশ্মীরি ছাত্রী খুশবু মঞ্জুর নিহতের ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম পৃথকভাবে মাঠে নেমে তদন্ত শুরু করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী, উদ্ধারকারী, হোটেল কর্র্তৃপক্ষ ও সহপাঠীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হবে। এ ছাড়া এটি হত্যা না আত্মহত্যা অথবা নিছক দুর্ঘটনা কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। পুরো তদন্ত শেষ হলে ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ বেরিয়ে আসবে।’
এ প্রসঙ্গে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঠিক কী কারণে খুশবু মঞ্জুরের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। এখন পুলিশ তদন্ত করে সঠিক কারণ উদঘাটন করবে।’
খুশবু মঞ্জুরের মৃত্যুতে শোকাহত খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খুশবু আমাদের কলেজের খুবই মেধাবী ছাত্রী ছিল। আহত হওয়ার পর তাকে আমাদের হাসপাতালে এনে কলেজের ব্যয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। খুশবুর এমন অকাল মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। কলেজ পরিচালনা পরিষদ থেকে শুরু করে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ সবাই এ ঘটনায় মর্মাহত।’
এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার রাতেই পুলিশ খুশবু মঞ্জুরের মরদেহ খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ এবং নিহতের ভাই আদিল মঞ্জুরের কাছে হস্তান্তর করে। পরে ওইদিনই রাত পৌনে ১২টার দিকে নিহতের লাশ নিয়ে ১০ সদস্যের একটি দল তার বাড়ি ভারতের জম্মু কাশ্মীরের অনন্তনাগ বুনপোড়া অপজান কাটুবিজবেহারার উদ্দেশে রওনা হয়।