দিনাজপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে আরও একজন। আরেকজন নিখোঁজ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত অবস্থানকালে সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার খবর এলো।
এর আগে বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথ বিবৃতি দিয়ে সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার ব্যাপারে তাদের সম্মতির কথা জানান। ওইদিন রাত ১১টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার দাইনুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত স্কুলছাত্রের নাম মিনহাজুল ইসলাম ওরফে মিনার বাবু (১৬)। সে উপজেলার আস্করপুর ইউনিয়নের ভিতরপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। খানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল মিনার।
গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন সাগর (১৯)। সে খানপুর এলাকার সালমানের ছেলে। নিখোঁজ এমদাদুল (২৮) ওই এলাকার লতিফুল ইসলামের ছেলে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম। তিনি জানান, রাতে দাইনুর বিওপির ৩১৫ নম্বর পিলারের কাছে গেলে বিএসএফ কয়েকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই মিনার নিহত হয় ও সাগর গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। নিহত মিনারের মরদেহ ওই সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশর্^বর্তী তেলিপাড়া নামক এলাকায় ছিল। আহত সাগরকে বিএসএফ তাদের এলাকায় নিয়ে গেছে।
ওসি বলেন, ‘বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ে পতাকা বৈঠক শেষে মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, মাদক আনাকে কেন্দ্র করে এই গুলি চালিয়েছে বলে বিএসএফ দাবি করেছে। যদিও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, তারা শুঁটকি আনার জন্য ওই সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে ভারতে গিয়েছিল।
নিখোঁজ এমদাদুলের পরিবারের দাবি, সে সীমান্তে চোরাচালান সংক্রান্ত কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল না। তাকে কে বা কারা রাতে ডেকে নিয়ে গিয়ে এই কাজ করিয়েছে। জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন তার স্বজনরা।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, রাত ১১টার দিকে তারা কয়েকটি গুলির শব্দ শুনেছেন। যদিও বিষয়টিতে তারা তেমন গুরুত্ব দেননি। সকালে খবর পেয়ে তারা সীমান্তে গিয়ে মিনারকে শনাক্ত করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মিনারের মরদেহ বিএসএফ ভারতের গঙ্গারামপুর থানায় নিয়ে যায়। সেখানেই মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ব্যাপারে বিজিবির পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে সংবাদকর্মীদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।