দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে মাদক কারবারি ছিনতাই

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পুলিশের পরিদর্শক ও উপপরিদর্শককে (এসআই) গুলি করে সহযোগীকে ছিনিয়ে নিয়েছে মাদক কারবারি সিন্ডিকেটের সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বড়িকান্দি ইউনিয়নের নূরজাহানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন নবীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সোহেল এবং এসআই রনি। তাদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে এসআই রনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় পাঠানো হয়। তার মাথায় গুলি লেগেছে। আর পরিদর্শক সোহেলের হাতে গুলি লেগে বেরিয়ে গেছে। তাকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নূরজাহানপুর গ্রামের মাদক কারবারি মন্নাফ ওরফে মনেকের (৫০) বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চুরি, হত্যা, ধর্ষণসহ ১৫টি মামলা রয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। কিছুদিন আগে কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আবারও মাদক বেচাকেনা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে মন্নাফ। তার ছেলে শিপন ডাকাতি ও মাদক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তারা বাবা-ছেলে এলাকায় অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে নূরজাহানপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মন্নাফকে আটক করে পুলিশ। এ খবর পেয়ে তার ছেলে শিপনসহ কয়েকজন মাদক কারবারি পুলিশের ওপর গুলি চালাতে শুরু করে। পুলিশও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় মন্নাফসহ হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। মাদক কারবারিদের গুলিতে পরিদর্শক সোহেল ও এসআই রনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নবীনগর থানার ওসি সাইফুদ্দিন আনোয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আটক মন্নাফকে ছাড়িয়ে নিতে তার ছেলে শিপন ও তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষা করতে পাল্টা গুলি ছোড়ে। তবে সন্ত্রাসী দলটি দুই পুলিশ সদস্যকে গুলিবিদ্ধ করে মন্নাফকে নিয়ে পালিয়ে যায়।’

এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সকালে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে পুলিশ একটি মামলা করেছে বলেও জানান ওসি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাদক কারবারি ও ডাকাত মন্নাফ ওরফে মনেক ও তার ছেলে শিপনসহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান চলছে।’