ঢাকায় সড়ক খননে বাড়তি টাকা

রাজধানীর সড়ক খননের ক্ষেত্রে নতুন ফি নির্ধারণ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। নতুন সড়ক খনন নীতিমালা অনুযায়ী, ‘সড়ক খনন ক্ষতিপূরণ ফি’ বাড়ানো হয়েছে। ফলে রাজধানী এলাকায় এখন থেকে বিভিন্ন সেবা সার্ভিস নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে নতুন ফি অনুযায়ী সিটি করপোরেশনকে অর্থ দিতে হবে।

এর আগে ২০১৭ সালের সিটি করপোরেশনের রেট শিডিউল অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছিল রাজধানীর সড়ক খননের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত এ ফি। এবার সর্বশেষ রেট শিডিউল অনুযায়ী বিটুমিন, রড, ইট, পাথর, বালি, শ্রমিকসহ বিভিন্ন নির্মাণ উপকরণের দামের বিষয়টি পর্যালোচনা করে খনন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ ফি নির্ধারণ করে গত ৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবিত এ ফি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আপত্তির মুখে পড়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ। পরে সবার মতামত সমন্বয় করে এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতির পর চূড়ান্ত হয় নতুন ফি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন এ ফি অনুযায়ী উন্মুক্ত খনন এবং ক্ষতিপূরণ ফি, সমতল পদ্ধতি (আবরণসহ) ফি, সমতল পদ্ধতি (আবরণ ছাড়া) তিনটি ধাপে টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উন্মুক্ত খননের ক্ষতিপূরণ ফি কাঁচা

রাস্তার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৪৮২ টাকা, ব্রিক পেভমেন্ট ১ হাজার ৭৯২ টাকা, বিটুমিনাস রাস্তা (প্রাইমারি রোড) ৭ হাজার ৮৭১ টাকা, বিটুমিনাস রাস্তা ৬ হাজার ৩১২ টাকা, সিসি রাস্তা ৪ হাজার ৮৪৬ টাকা, আরসিসি রাস্তা ৬ হাজার ৭০৪ টাকা, সিসি ফুটপাত ৩ হাজার ২১ টাকা,  এনগ্রেভ সিসি টাইল (ফুটপাত) ৪ হাজার ৩৫৬ টাকা ও ইউনিব্লক পেভারস (ফুটপাত) ৩ হাজার ৯২৮ টাকা। সমতল পদ্ধতি (আবরণসহ) কাঁচা রাস্তার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৪৮ টাকা, ব্রিক পেভমেন্ট ১৭৯ টাকা, বিটুমিনাস রাস্তা (প্রাইমারি রোড) ৭৮৭ টাকা, বিটুমিনাস রাস্তা ৬৩১ টাকা, সিসি রাস্তা ৪৯৪ টাকা, আরসিসি রাস্তা ৬৭০ টাকা, সিসি ফুটপাত ৩০২ টাকা, এনগ্রেভ সিসি টাইল (ফুটপাত) ৪৩৫ টাকা ও ইউনিব্লক পেভারস (ফুটপাত) ৩৯২ টাকা। তবে খননের গভীরতা যদি ১ দশমিক ৫০ মিটারের বেশি হয় তাহলে ফি কিছুটা বাড়বে।

রাস্তার বোরিং ৬ ইঞ্চি থেকে ১২ ইঞ্চির কম ব্যাসের জন্য কাঁচা রাস্তার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৬৩ টাকা, ব্রিক পেভমেন্ট ২৩৩ টাকা, বিটুমিনাস রাস্তা (প্রাইমারি রোড) ১ হাজার ২৩ টাকা, বিটুমিনাস রাস্তা ৮২০ টাকা, সিসি রাস্তা ৬৪৩ টাকা, আরসিসি রাস্তা ৮৭২ টাকা, সিসি ফুটপাত ৩৯৩ টাকা, এনগ্রেভ সিসি টাইল (ফুটপাত) ৫৬৬ টাকা ও ইউনিব্লক পেভারস (ফুটপাত) ৫১০ টাকা। আর রাস্তার বোরিং ১২ ইঞ্চি থেকে ১৮ ইঞ্চি হলে কাঁচা রাস্তার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৮২ টাকা, ব্রিক পেভমেন্ট ৩০৫ টাকা, বিটুমিনাস রাস্তা (প্রাইমারি রোড) ১ হাজার ৩৩৮ টাকা, বিটুমিনাস রাস্তা ১ হাজার ৭৩ টাকা, সিসি রাস্তা ৮৪১ টাকা, আরসিসি রাস্তা ১ হাজার ১৪০ টাকা, সিসি ফুটপাত ৫১৪ টাকা, এনগ্রেভ সিসি টাইল (ফুটপাত) ৭৪১ টাকা ও ইউনিব্লক পেভারস (ফুটপাত) ৬৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন যে টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বর্তমান নির্মাণ উপকরণের বাজারদর মাথায় রেখেই করা হয়েছে। যখন কোনো সেবা সংস্থা একটি সড়ক খননের উদ্যোগ নেয়, তখন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন সড়ক খনন করা হবে, কত দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতায় খনন করা হবে এবং কী পরিমাণ সড়ক খনন করা হবে তা বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর ভিত্তিতে খনন করা সড়ক মেরামত করার জন্য নির্মাণ উপকরণ ও শ্রমিকের প্রাক্কলন করা হয়। প্রাক্কলিত নির্মাণ উপকরণ ও শ্রমিকের দাম নির্ধারণ করা হয় রেট শিডিউল ধরে। এখানে খনন ফি থেকে সিটি করপোরেশন কোনো অর্থ অন্য কাজে খরচ করে না।

রাজধানীতে মূলত সড়ক খনন করে ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ও তিতাস গ্যাসের মতো সংস্থা। খননের পর সড়ক মেরামতের জন্য নির্ধারিত রেট শিডিউল ধরে হিসাব করা হয় ক্ষতিপূরণ ফি, যা আদায় করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। সড়ক খননকাজ শুরুর আগেই জমা দিতে হয় এ ক্ষতিপূরণ। সঙ্গে দিতে হয় সমপরিমাণ জামানত। এ অর্থ দিয়ে তাদের কাজের পরবর্তী সময়ে করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাস্তা মেরামত করা হয়ে থাকে।