প্রথমে হাসেনি পা, পরের ২৮ মিনিটেই হ্যাটট্রিক পান সাবিনা

সাতক্ষীরার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বোলিংয়ে কাটার দিয়ে বিধ্বস্ত করেন প্রতিপক্ষকে। সৌম্য সরকারের ব্যাকরণের বাইরেরে ক্রিকেটিয় ব্যাটিংয়েও মন ছুয়েছিলেন দর্শকদের। খুলনা বিভাগের সেই জেলারই মেয়ে জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। যার পায়ের জাদুর মুন্সিয়ানায় ঘায়েল হয় প্রতিপক্ষ। নিয়মিত বিপক্ষ দলের জালে বল জড়ায় তার শটে। দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ এই গোলদাতার পায়ের জাদু যেন থামছেই না।

সাফে পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ হ্যাটট্রিক করে সে ধারবাহিকতা রাখলেন তিনি। প্রথম ২৯ মিনিট যার পা থেকে জালে যায়নি কোনো বল। পরের ২৮ মিনিটেই সেই সাবিনা পূর্ণ করেন নিজের হ্যাটট্রিক।

আজ শনিবার নেপালের কাঠমুন্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের জালে তিনবার বল জড়িয়েছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। তাতে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। খেলার ৩০ মিনিটের সময় লাল-সবুজরা যখন তৃতীয় গোলের লিড নেয়, সাবিনা তখন নিজের প্রথম গোলের দেখা পান। এর চার মিনিট পর তার পায়ে আসে দ্বিতীয় গোল। হ্যাটট্রিক গোলটি আসে দ্বিতীয়ার্ধে। সানজিদার বাড়ানো শটে লাফিয়ে ক্ষিপ্র এক হেড দিলে বল জড়ায় পাকিস্তানের জালে। ৫৮ মিনিটেই পেয়ে যান নিজের তৃতীয় গোল। ২৮ মিনিটের ঝড়ে হ্যাটট্রিক করেন তিনি।

বাবা-মায়ের চতুর্থ সন্তান সাবিনার ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক ২০০৭ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে। সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল কোচ আকবরের মাধ্যমেই ফুটবলের হাতেখড়ি। স্কুল পর্যায়ে, আন্তঃস্কুল ও আন্তঃজেলা পর্যায়েই সুনাম কুড়িয়েছিলেন তিনি। ফলে দশম শ্রেণিতে উঠতে না উঠতেই ২০০৯ সালে জাতীয় দলের হয়ে সাবিনার অভিষেক ঘটে। ২০১৫ সাল থেকে তিনি জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক গোলের রেকর্ড তার। এতদিন ছিল ২৬টি। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২৯টি গোল। ছেলে ও মেয়েদের ফুটবল মিলিয়েও তার গোল সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও সবমিলিয়ে ৩১৩ বার প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে ছেলে-মেয়ে উভয়ের ফুটবলে সাবিনা বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

সেরা গোলদাতাদের তালিকায় নাম লেখানো এই নারী ফুটবলারের গোলের রহস্য জানতে চাইলে একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমার পজিশন স্ট্রাইকার। তাই আমার কাজ গোল করা। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করেছি। যে কারণে সফলতা পেয়েছি।’

বর্তমানে বসুন্ধরা কিংসের এই ফুটবলার খেলেছেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, ঢাকা মোহামেডান ও বিজেএমসি হয়ে। কিংসের জার্সি গায়ে ২৫ ম্যাচে করেছেন ৬২ গোল। এছাড়া মালদ্বীপের লিগেও খেলেছেন লাল সবুজদের অধিনায়ক সাবিনা।

সেই সাক্ষাতকারে সাবিনা আরও বলেছিলেন, ‘আমি ফুটবলের সঙ্গে আছি। ফুটবলের সঙ্গে থাকতে চাই। আর যখন অবসর নেবো, তখন অন্যকিছু নিয়ে ভাববো। আর এখন যেমন নাম্বার ওয়ান আছি, তেমন নাম্বার ওয়ানই থাকতে চাই।’