তীব্র গরমে হাঁসফাঁস মানুষের জীবন। এ গরমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং। এ সময় স্ট্রোক ও প্যারালাইসিস রোগীরা ঝুঁকিতে থাকেন। কারণ গরমে হিটস্ট্রোকের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই একটু বাড়তি সচেতন থাকা দরকার। প্রয়োজন ছাড়া মধ্য-দুপুরে রোদে ঘরের বাইরে বা শারীরিক পরিশ্রম হবে এমন কঠিন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা ভালো। দৈনিক ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুমানো, টেনশন-মুক্ত থাকা দরকারÑ বিশেষ করে বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
অনেকে হার্ট অ্যাটাকই স্ট্রোক বলে মনে করে থাকেন। আসলে স্ট্রোক হলো ব্রেইনের জটিল অসুখ। মানুষের মৃত্যুর তৃতীয় কারণ এই স্ট্রোক। প্রথম কারণ হলো ক্যানসার এবং দ্বিতীয় কারণ হলো হ্যার্ট অ্যাটাক। প্রতি বছর ১ লাখ মানুষের মধ্যে ১৮০ থেকে ৩০০ মানুষ স্ট্র্রোকে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।
স্ট্রোকের প্রকার : স্ট্রোক তিন ধরনের হয়ে থাকে TIA, Progressing stroke। Complete stroke| TIA হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগীর রিকভারি সম্ভব। Progressing stroke-এ রোগীর অবস্থা ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে। Completed stroke-এ রোগীর অবস্থা আগের মতোই থাকে বা কোনো ধরনের অবনতি হয় না। আবার স্ট্রোককে অন্যভাবে ক্লাসিফাইড করা যায়। একটি হলো রক্তনালি ব্লক হয়ে স্ট্রোক বা ইন্ট্রাসেরিব্রাল ইনফার্কশন। অন্যটা হলো ব্রেইনের রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে ব্রেনে-এ রক্তক্ষরণ হওয়া। শতকরা ৮৫ ভাগ স্ট্রোক হয় রক্তনালি ব্লক হওয়ার কারণে এবং মাত্র শতকরা ১৫ ভাগ স্ট্রোক হয় রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে ব্রেইনে রক্তক্ষরণের কারণে।
কারণ : ইসচেমিক স্ট্রোক -এর কারণ রক্তে কোলেস্টেরল বা খারাপ চর্বির আধিক্য। ডায়বেটিকস, দীর্ঘসময় বসে কাজ করা, এবং স্ট্র্রেসফুল চাকরি। তা ছাড়া হার্টের অসুখ থেকেও স্ট্রোক হতে পারে। এদিকে হঠাৎ আবহাওয়ার প্রতিকূল পরিবর্তনে মানুষের মধ্যে নেমে আসে ছন্দপতন। তাই সময়কালটায় সচেতন হয়ে চলতে হবে সবারই। হেমোরেজিক স্ট্রোক বা ব্রেন রক্তক্ষরণ হয় উচ্চ রক্তচাপের জন্য।
প্রতিরোধে করণীয় : ইসচেমিক স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে হলে রক্তের চর্বি কমাতে হবে। সেই জন্য ভাত কম খেতে হবে, শাকসবজি, সালাদ বেশি খেতে হবে। বয়স্ক মানুষের গরু খাসির মাংস বর্জন করা উত্তম। প্রতিদিন সকাল বিকেল ৩০-৪০ মিনিট জোর পায়ে হাঁটতে হবে। তা ছাড়া ধূমপান, মদ্যপান বর্জন করতে হবে। আর হেমোরেজিক স্ট্রোক প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপের-এর ওষুধ খেতে হবে। এক বেলায় যেন ওষুধ বাদ না থাকে। প্রয়োজনে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ পকেটে বা ব্যক্তিগত ব্যাগে কিংবা অফিসের কর্মস্থলে রাখতে হবে। স্ট্রোক হয়ে গেলে কোনো নিউরোসার্জন বা নিউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত অথবা বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া ।