৬০ জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত আ.লীগের

দেশের ৬০ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পুরনো ও নতুনের মিশেলে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনেও আস্থা রেখেছেন নতুনের ওপর। ওই আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন।

গতকাল শনিবার দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় জেলা পরিষদ ও গাইবান্ধার উপনির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।

আগামী ১২ অক্টোবর গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন হবে। ১৮ অক্টোবর হবে ৬১ জেলা পরিষদ নির্বাচন।

সভার শুরুতে গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনের প্রার্থীর বিষয়ে আলোচনা করা হয়। জেলার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের আগামীর রাজনীতির কথা বিবেচনা করে মাহমুদ হাসান রিপনকে নৌকার প্রার্থী করার জন্য কথা বলেন কয়েকজন নেতা। পরে সভার সর্বসম্মতিক্রমে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিপনকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত করা হয়।

জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে গাইবান্ধা-৫ আসনটি শূন্য হয়। ফজলে রাব্বী গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ আসনে রিপন ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন প্রয়াত রাব্বীর মেয়ে ফারজানা রাব্বী বুবলীসহ মোট ১০ জন।

পরে ৬১ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বৈঠক চলমান। ৬১ জেলায় আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রত্যাশী প্রায় ৬০০ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মনোনয়ন বোর্ডের প্রধান শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ওবায়দুল কাদের, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, কাজী জাফর উল্যাহ, রাশিদুল আলম, আবদুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, হাছান মাহমুদ ও আবদুস সোবহান গোলাপ।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়াম্যান পদে মনোনয়ন পাওয়াদের মধ্যে পুরনোর সংখ্যাই বেশি। কেন পুরনো এই প্রশ্নে মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেসব জেলায় চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ ওঠেনি, সেই সব সাবেক চেয়ারম্যানকে আবারও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

৬১ জেলা পরিষদে আ.লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত : ৬১ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর নাম পাঠানো হয়। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন পঞ্চগড়ে আবু তোয়বুর রহমান, ঠাকুরগাঁওয়ে মু সাদেক কুরাইশী, দিনাজপুরে আজিজুল ইমাম চৌধুরী, নীলফামারীতে মমতাজুল হক, লালমনিরহাটে মতিয়ার রহমান, রংপুরে  ইলিয়াস আহমেদ, কুড়িগ্রামে জাফর আলী, গাইবান্ধায় আবু বকর সিদ্দিককে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে।

জয়পুরহাটে খাজা সামছুল আলম, বগুড়াতে মকবুল হোসেন, নওগাঁতে এ কে এম ফজলে রাব্বি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে রুহুল আমিন, রাজশাহীতে মীর ইকবাল, নাটোরে সাজেদুর রহমান খাঁন, সিরাজগঞ্জে আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, পাবনায় আ স ম আব্দুর রহিম পাকনকে সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

মেহেরপুরে আব্দুস সালাম, কুষ্টিয়াতে সদর উদ্দিন খান, চুয়াডাঙ্গাতে মাহফুজুর রহমান (মনজু), যশোরে সাইফুজ্জামান পিকুল, মাগুরাতে পংকজ কুমার কু-ু, নড়াইলে সুবাস চন্দ্র বোস, বাগেরহাটে শেখ কামরুজ্জামান টুকু, খুলনায় শেখ হারুনুর রশীদ, সাতক্ষীরায় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ঝিনাইদহে কনক কান্তি দাস আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন।

বরগুনাতে জাহাঙ্গীর কবির, পটুয়াখালীতে খলিলুর রহমান, ভোলায় আব্দুল মুমিন টুলু, বরিশালে এ কে এম জাহাঙ্গীর, ঝালকাঠীতে খান সাইফুল্লাহ পনির, পিরোজপুরে সালমা রহমানকে সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

টাঙ্গাইলে ফজলুর রহমান খান ফারুক, কিশোরগঞ্জে জিল্লুর রহমান, মানিকগঞ্জে গোলাম মহীউদ্দীন, মুন্সীগঞ্জে মহিউদ্দিন, ঢাকাতে মাহবুবুর রহমান, গাজীপুরে মোতাহার হোসেন, নরসিংদীতে আবদুল মতিন ভুঞা, নারায়ণগঞ্জে চন্দন শীল, রাজবাড়ীতে এ কে এম শফিকুল মোরশেদ, ফরিদপুরে মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, গোপালগঞ্জে       মুন্সী মো. আতিয়ার রহমান, মাদারীপুরে মুনির চৌধুরী, শরীয়তপুরে ছাবেদুর রহমানকে সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

জামালপুরে মোহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, শেরপুরে চন্দন কুমার পাল, ময়মনসিংহে ইউসুফ খান পাঠান, নেত্রকোনাতে অসিত কুমার সরকার সমর্থন পেয়েছেন।

সুনামগঞ্জে খায়রুল কবির রুমেন, সিলেটে নাসির উদ্দিন খান, মৌলভীবাজারে মিছবাহুর রহমান, হবিগঞ্জে ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আল মামুন সরকার, কুমিল্লায় মফিজুর রহমান বাবলু, চাঁদপুরে ইউসুফ গাজী, ফেনীতে খায়রুল বশর মজুমদার, নোয়াখালীতে আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, লক্ষ্মীপুরে শাহজাহান, চট্টগ্রামে এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম এবং কক্সবাজারে সদ্য সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরীকে সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।