টস জিত আর ট্রফি নাও এশিয়া কাপ ফাইনালে আজ সমীকরণটা এমনই দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মধ্যে যে দলই টস জিতবে শিরোপাটা তার! এই আসরে ১১ ম্যাচের মধ্যে চারটি ব্যতিক্রম ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোয় টসজয়ী দল জিতেছে। আর ব্যতিক্রমগুলোও নজর না দেওয়ার মতোই। দুটো ম্যাচে হংকং ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে টস জিতে হেরেছে। বিরাট কোহলির সেঞ্চুরির দিনে আফগানিস্তান টস জিতে হেরেছে। আর আফগানিস্তানের সঙ্গে টস জিতে হেরেছিল বাংলাদেশ। এই চার ব্যতিক্রম আসলে এই আসরের টস-ফলের ধারাবাহিকতায় ছেদ ফেলার মতো নয়। তাই আজ দুবাইয়ে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভাগ্য লড়াই। দাসুন শানাকা শ্রীলঙ্কাকে ষষ্ঠ এশিয়া কাপ এনে দেবেন না বাবর আজম পাকিস্তানকে তৃতীয় শিরোপা উপহার দেবেন তা যেন ঠিক হয়ে যাবে ম্যাচের আগেই!
টসের ভাগ্য লড়াইয়ে কিন্তু আগেই জিতে আছেন শানাকা। এই আসরে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছেন। আফগানদের সঙ্গে ওই প্রথম ম্যাচে। এরপর চার ম্যাচে টস জিতে চারটিতেই জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। এদিকে পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর পাঁচ ম্যাচে টস হেরেছেন তিনটিতে। হংকং ম্যাচ বাদ দিলে বাকি দুই ম্যাচে হেরেছে পাকিস্তানও। আর টস জেতা দুই ম্যাচে জিতেছেন বাবররা। তাই আজ ফাইনালে টস-ভাগ্যকে শিরোপা নির্ধারণী হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না মোটেই। পাকিস্তান কোচ সাকলাইন মুশতাক অবশ্য এই ধারণাকে আমল দিলেন না, ‘যদি তুমি চ্যাম্পিয়ন হতে চাও তাহলে টস নিয়ে ভাবলে হবে না। তোমাকে প্রথম ইনিংসেও চ্যাম্পিয়ন হতে হবে, দ্বিতীয় ইনিংসেও। এই আসরে কোনো ম্যাচেই আমরা টস নিয়ে কথা বলিনি। এটা আমরা অপছন্দ করি এবং ফাইনালেও এ নিয়ে কোনো কথা বলব না।’
টসের চিন্তা বাদ দিয়ে নামবে দুই দলই। ক্রিকেটটা আসলে খেলেই জিততে হয়। সঙ্গে ভাগ্য লাগে তবে তা ব্যাটে বলে। এশিয়া কাপের ফাইনালে চতুর্থবারের লড়াইয়ে দুই দল সেটাই ভাবছে। এর আগে ১৯৮৬, ২০০০ এবং ২০১৪ সালে ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই প্রতিপক্ষ। জয়ের দিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা।
এবার ট্রফি জয় লঙ্কানদের জন্য ভিন্ন কিছু। শানাকারা এবার দেশের মানুষের জন্য কিছু জিততে চান। নানা ইস্যুতে তীব্র বিশৃঙ্খলায় এ বছরের মাঝামাঝি কঠিন সময় পার করেছে দেশটির মানুষ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ভালো খেলে তাদের মুখে হাসি ফোটান ক্রিকেটাররা। এই খেলাটি দিয়েই অস্থিরতা-অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ কিছুটা ভুলতে পেরেছিলেন লঙ্কান মানুষ। এবার তাদেরকে এতদিন কষ্ট ও ধৈর্যের প্রতিদান দিতে প্রস্তুত শানাকা। আসরের প্রথম ম্যাচে হোঁচট খেয়ে প্রবল বিক্রমেই ঘুরে দাঁড়ায় তারা। আফগানদের বিপক্ষে মাত্র ১০৫ রানে অলআউট হয়ে হারের পর তাদের ফাইনালে দেখছিল না কেউই। কিন্তু পাশার দান উল্টো একে একে সব প্রতিপক্ষকেই হারিয়ে দলটি এখন শিরোপায় একহাত রেখেছে। দলগত ক্রিকেট লঙ্কানদের শক্তি, সেই শক্তিতে জয়ের পথে কাজে লাগিয়েছেন অধিনায়ক শানাকা, ‘এটা ঠিক আমাদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। টানা চারটি ম্যাচ জয় চাট্টিখানি কথা নয়। আমরা এগিয়ে কিন্তু পাকিস্তানকে হালকাভাবে নিচ্ছি না। ওরা সেরা ক্রিকেটারদের দল। অবশ্যই ভালো করবে।’
এদিকে পাকিস্তানও দেশের মানুষের জন্য শিরোপা জিততে চায়। এশিয়া কাপ চলাকালীন প্রবল বর্ষণে দেশটির কিছু জায়গায় চরম দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে বাবর আজমদের এই কাপ চাই। তাছাড়া নিজেদের ভালো খেলার সিলমোহর হবে এই ট্রফি। শাদাব খান যেমন সংবাদ সম্মেলনে এ কথাগুলোই বললেন, ‘আমরা যখন ভারতের সঙ্গে প্রথম ম্যাচটি হারি, বিশ্বাস রেখেছিলাম আমরা ফিরব এবং ফিরেছি। আমরা গ্রেট দল এটা সবাই মানবে কিন্তু চ্যাম্পিয়ন দল হতে চাইলে আমাদের শিরোপা জিততে হবে। এই ট্রফি জিতে আমরা তা প্রমাণ করব। তাছাড়া আমরা একটা কারণেই এই এশিয়া কাপ জিততে চাই। আমাদের দেশে বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।’
দুই দলের শেষ ম্যাচটা একরকম একপেশেই হয়েছে। সুপার ফোরে লঙ্কানদের বিপক্ষে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান। ফাইনাল এমন হবে তা ভাবার কারণ নেই। ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা না থাকলেও এটা এশিয়া কাপের ফাইনাল। লড়াইয়ে ঠাসা দুই এশিয়ানের রোমাঞ্চের জন্য সোনালি ট্রফির হাতছানিই যথেষ্ট।