কুশিয়ারার পানিবণ্টন অববাহিকাভিত্তিক নদীব্যবস্থাপনায় মাইলফলক

মালিক ফিদা এ খান বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশের জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের (এনআরসিসি) এই সদস্য বর্তমানে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফর্মেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর নির্বাহী পরিচালক। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে বাংলাদেশ-ভারত ৭টি সমঝোতা স্মারকের অন্যতম কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি। কুশিয়ারার পানিবণ্টন ও প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের সহ-সম্পাদক সাঈদ জুবেরী

দেশ রূপান্তর : তিস্তা চুক্তি না হওয়া নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আপনার পর্যবেক্ষণ কী? তিস্তা চুক্তি বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

মালিক ফিদা এ খান : তিস্তা চুক্তিটা ড্রাফট পর্যায়ে তৈরি হয়ে গিয়েছিল ২০১১ সালে। ইন্ডিয়াতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রাদেশিক সরকার আছে। তাদের প্রাদেশিক সরকারের সম্মতি নিয়ে এই ধরনের এগ্রিমেন্টগুলো করা হয়। ১৯৯৬ সালে যখন আমাদের গঙ্গা চুক্তি হয়েছিল, তখন ওয়েস্ট বেঙ্গলে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু, তার একটা বিরাট অবদান ছিল। তিস্তা যেহেতু ওয়েস্ট বেঙ্গল বা পশ্চিমবঙ্গের ভেতরে পড়েছে, ফলে এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সঙ্গে প্রাদেশিক সরকারেরও একটি স্টেক আছে, মতামত আছে। তবে প্রাদেশিক সরকারকে ইগনোর করে ইচ্ছে করলেই সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট সিগনেচার করতে পারে। আমাদের এখন পর্যন্ত জেআরসি (জয়েন্ট রিভার কমিশন) লেভেলে বৈঠক হয়েছে, সেটা টেকনিক্যাল লেভেলে হোক বা মেম্বার কিংবা সেক্রেটারি বা মন্ত্রী লেভেলে। সব লেভেলে আমরা তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলেছি। আমাদের তিস্তা অববাহিকায় যে কয়েক মিলিয়ন মানুষ আছেন, তাদের সাফারিংসের কথা বলা হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী যখনই ভারত সফরে গিয়েছেন বা তাদের প্রধানমন্ত্রী যখনই বাংলাদেশ সফরে এসেছেন প্রতিবারই কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী এটার কথা জোরালোভাবে বলেছেন। এবারও, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কিন্তু ডিসকাশনে এই তিস্তা চুক্তির কথা বলেছেন। এখন ওদের সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট এবং স্টেট গভর্নমেন্ট আছে তাদের মধ্যে আন্ডারস্ট্যাডিং না হওয়াটাই আমি মনে করি বড় কারণ।

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫৪টি যৌথ নদী রয়েছে, সেগুলো নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে কুশিয়ারার পানি বণ্টনের বিষয়টি বাংলাদেশ বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এর কারণ কী?

মালিক ফিদা এ খান : আমাদের যে ৫৪টা নদী, এর মধ্যে বড় হচ্ছে গঙ্গা, যেটা নিয়ে ১৯৯৬ সালে আমরা চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। তারপরে হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র, যার বেশিরভাগ এখন যমুনায় প্রবাহিত, এরপরে হচ্ছে বরাক, যেটি বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়ে দুটি নদীতে পরিণত হয়েছে; একটি হলো সুরমা ও আরেকটি হলো কুশিয়ারা। এগুলো হচ্ছে আমাদের এই ট্রান্স বাউন্ডারি যেসব নদী আছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমরা কুশিয়ারার পানি বণ্টনের চুক্তিকে বড় করে দেখছি। চার/পাঁচ বছর আগে আমরা কুশিয়ারাতে একটি ইরিগেশন প্রজেক্ট করেছিলাম, যেখানে ৫ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদ করা হবে। একটি পাম্প হাউজও করা হয়েছে। একটি খাল খনন করেছি, যেটাকে রহিমপুর খাল বলে। সেই খালটাকে খনন করে পানি নিয়ে এসে সেটাকে পাম্প করা হবে। দুই বা আড়াই বছর আগে খালটি খনন করে কুশিয়ারা থেকে যখন পানি আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল তখন বিএসএফ বাধা দেয়, যেহেতু এটা ট্রান্স বাউন্ডারি নদী। যেটা বলছিলাম জকিগঞ্জ উপজেলার অমলশীদ পয়েন্টে ভারতের বরাক নদী বিভক্ত হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উৎপত্তি। অমলশীদ থেকে প্রায় ৪.৩ কিলোমিটার ভাটিতে হচ্ছে এই রহিমপুর খাল। বলতে পারেন ২০১৯/২০ থেকে আমরা দুই দেশের বিভিন্ন বৈঠকে কুশিয়ারার বিষয়টা মীমাংসা করতে চাচ্ছিলাম। বলে রাখি, এখানেও কিন্তু তাদের যে প্রাদেশিক মানে যে স্টেট গভর্নমেন্ট আছে তাদের কাছ থেকেও ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়েছে। যে এমওইউটি সাইন হয়েছে, এর কতগুলো কন্ডিশন আছে যে, দুই দেশই ১৫৩/১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলন করতে পারবে। তার মানে এখানে ভাগাভাগির পরিমাণটা কিন্তু ফিফটি-ফিফটি। যে কোনো চুক্তিতে দুই পক্ষ ঐকমত্যে না এলে কিন্তু সিগনেচার হচ্ছে না, তিস্তা যার একটি অন্যতম উদাহরণ। তো সেই সেন্সে, এই কুশিয়ারার পানি বণ্টনটা আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে অ্যাটলিস্ট একটা ঐকমত্যে এসেছি। এটা সরকারের একটি সাফল্য।

দেশ রূপান্তর : সিলেটে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় বুঝতে পারছি যে উজানের প্রকৃতি ধ্বংসের মতোই ভাটিতে নিজ দেশে নদী-খাল-হাওর-জলাশয় ভরাট-দখলে পানি নেমে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া কত মারাত্মক। মেঘনা অববাহিকার সংকট সমাধানে কুশিয়ারা সমঝোতা কতটা প্রভাব ফেলবে?

মালিক ফিদা এ খান : কুশিয়ারা থেকে আমাদের বন্যাটা শুরু হওয়ার ঠিক আগ পর্যন্ত আমরা পানি উত্তোলন করব। নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত, মানে যে ড্রাই সিজনে পানিটা নিয়ে আমরা ইরিগেশন করি, সেই সময়ের জন্য কিন্তু চুক্তিটা হয়েছে। সিলেটের যে বন্যা আমরা দেখলাম সেটা কুশিয়ারার জন্য হয়নি। সেটা হয়েছে মূলত সুরমা ও সুরমাকে নিয়ে অনেকগুলো ছোট-বড় নদী আসাম থেকে মেঘালয় হয়ে এসেছে, সেগুলোর জন্য। এবার আসামেও যেমন বেশি বৃষ্টি হয়েছে, চেরাপুঞ্জিতেও হয়েছে। সেইম টাইম বাংলাদেশেও অধিক পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। মাত্র তিনদিনে আড়াই হাজার মিলিমিটারের ওপরে বৃষ্টি হয়েছে। আবার ২৫ দিনে সাড়ে ৫ হাজার মিলিমিটারের ওপরে বৃষ্টি হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণে বৃষ্টির পানি, এটার ধারণ ক্ষমতা আমাদের নদী, খাল বা হাওরগুলোর নেই। আরেকটি জিনিস হলো সিলেট শহরে অনেকগুলো ছোট-বড় ছড়া ছিল, তার অনেকগুলোই দখল হয়ে গেছে। এগুলো পুনরুদ্ধার করতে হবে। আমরা কিন্তু বন্যাকে প্রোটেকশন করতে পারব না, কিন্তু বন্যাকে ম্যানেজমেন্ট করতে পারব। বন্যার পানিটা বের করে দিতে হবে। খাল, নালা, নদী আছে সেগুলোকে খনন করতে হবে, সেইম টাইম ড্রেজিং করতে হবে। সো কুশিয়ারার সঙ্গে এবারের বন্যার কোনো সম্পর্ক নেই, এটা হয়েছে ড্রাই সিজনে ইরিগেশন সুবিধার জন্য। বন্যা পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনাকে আলাদাভাবে দেখতে হবে।

এখন মেঘনা অববাহিকা নিয়ে আমরা বেসিনভিত্তিক কিছু কথা বলে থাকি। যেটা ২০১১ সালে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং একটি ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট সাইন করেছিলেন। এটা ছিল একটি ঐতিহাসিক এমওইউ, সেখানে আর্টিকেল টু-তে ক্লিয়ারলি বলা হয়েছে, আমাদের অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় যেতে হবে। মানে হচ্ছে রিভার বেসিন অর্গানাইজেশন করতে হবে। এবারও সচিব এবং মন্ত্রী পর্যায়ের এ বিষয়ে ডিসকাশন করেছি। এ বিষয়ে ভারতও ঐকমত্যে এসেছে। অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় কতগুলো দিক আছে, যেমন একটি হচ্ছে বন্যা ব্যবস্থাপনা, আরেকটি হচ্ছে খরার সময় ইরিগেশনের ব্যবস্থা। এগুলো একেকটা ইলিমেন্টস যেটা অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনার অংশ। আমরা যখন বন্যা ব্যবস্থাপনার দিকে এগোব, তখন আরও একটা ইলিমেন্ট যোগ হবে। এরকম বেসিন লেভেলে অর্গানাইজেশনে আরও অনেক ইলিমেন্টস আছে। যেমন দুই দেশের মধ্যে মেঘনা অববাহিকায় নদীর যে নিজস্ব একটি ফ্লো রাখার দরকার আছে, সে কথা আসতে পারে। যেটাকে আমরা এনভায়রনমেন্টাল ফ্লো বলে থাকি। আমাদের হাইকোর্টও রায় দিয়েছেÑ নদী একটি জীবন্ত সত্তা। অতএব এই পানির প্রবাহকে কেবল ভাগ করলেই হবে না, নদীতেও পানি রাখতে হবে। এখানেও ভারত এবার সম্মতি দিয়েছে যে এই ৫৪টা নদীর এনভায়রনমেন্টাল ফ্লো রাখতে হবে। ফলে আমি মনে করি যে, অববাহিকাভিত্তিক নদীব্যবস্থাপনায় কুশিয়ারার পানি বণ্টন এমওইউটি একটি মাইলফলক।

দেশ রূপান্তর : মেঘালয়-আসামের পাহাড়ি ঢলের পানি এবার তুলনামূলকভাবে অনেক দ্রুত সময়েই সিলেট-সুনামগঞ্জে নেমে এসেছিল। এর কারণ কী?

মালিক ফিদা এ খান : এবার দ্রুত ঢল নেমে আসার অনেকগুলো কারণ আছে। সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে আমাদের টপোগ্রাফি। আমাদের যে ইন্টারন্যাশনাল বাউন্ডারি তার পরই ইন্ডিয়ার উঁচু পাহাড়শ্রেণি। আপস্ট্রিমের পুরো এলাকাটাই আসাম বা মেঘালয়ের পাহাড়ি অঞ্চল। তো যখনই বৃষ্টি হয়, তখনই পানিটা আর পাহাড়ে না থেকে গড়িয়ে নিচে নেমে ফ্লাশ ফ্লাড হয়। আর বাকি কারণগুলো হচ্ছে, ইন্ডিয়াতেও পপুলেশন বাড়ছে, ঘরবাড়ি তোলা হচ্ছে, গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। ফলে পানি কোনো বাধা না পেয়েই দ্রুত পাহাড় থেকে সমতলের দিকে নেমে আসছে। ফ্লাশ ফ্লাডের কারণকে ভাগ করলে ৮০ শতাংশ হলো টপোগ্রাফি দায়ী আর ২০ শতাংশ কারণ ডিফরেস্টেশন, গাছপালা ধ্বংস বা নগরায়ণ।

দেশ রূপান্তর : মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র এবং গঙ্গা অববাহিকা বাংলাদেশ, ভারত ও চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশের সম্মিলিত বিষয়। এটা কেবল রাষ্ট্রীয় সীমানার বিষয় নয়, এটা অবিচ্ছিন্ন প্রকৃতি। তাই অববাহিকায় কে কী করছে সেটা জানার উপায় কী এবং জানার পর কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়?

মালিক ফিদা এ খান : এজন্যই প্রধানমন্ত্রী ২০১১ সালে যে এমওইউটা সাইন করেছিলেন, সেখানে বলা হয়েছিল যে অববাহিকাভিত্তিক অর্গানাইজেশন গড়ে তুলতে হবে। যেটা মেকং বেসিনে আছে, বা নাইজার বেসিনে আছে। এটা একটা অন্যতম ওয়ে, উজানের কোনো দেশ যদি কোনো ইন্টারভেনশন করে আমরা যারা ভাটিতে আছি, আমাদের জানাতে হবে। এটা রুলস। কিন্তু আমাদের এই ধরনের অর্গানাইজেশন এখনো হয়নি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে হচ্ছে না, তা নয়। যেমন, আমরা একসময় দেখেছিলাম ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ফান্ডিংয়ে ব্রহ্মপুত্র বেসিনে নেপাল বা ভুটান, বেশ কয়েকটি দেশ ওপরের দিকে কিছু ইন্টারভেনশন করছে। তারা আমাদের বলেছিল এটার জন্য আমাদের বাংলাদেশের কোনো ধরনের আপত্তি আছে কি না। আপস্ট্রিমে থাকা যে কোনো দেশ যেকোনো প্রকার কিছু করলে আমাদের জানাতে হবে। এটা এখন আমরা বিভিন্ন মিটিংয়ের মাধ্যমে বা অ্যাম্বেসির মাধ্যমে জানতে পারি। এখন যদি ধরেন তারা কোনোভাবেই আমাদের না জানায় সেক্ষেত্রে কী হবে! এখন তো ইনফরমেশন টেকনোলজির যুগ, আমরা যে কোনো সময় স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ঘরে বসেই পর্যবেক্ষণ চালাতে পারি যে, অববাহিকায় কোনো হস্তক্ষেপ হচ্ছে কি না। এ ধরনের কিছু হলে সেটাকে অবজার্ভ করে একটা মনিটরিং সিস্টেমের মধ্যে এনে যদি দেখি আপস্ট্রিমে কোনো ইন্টারভেনশন হচ্ছে, তাহলে সেটা তাদের কাছে জানতে চাইতে হবে। এটা কিন্তু হচ্ছে। চায়না যদি বড় কিছু করে থাকে ভারত তাদের কাছে জবাব চাচ্ছে। টিপাইমুখ বাঁধ যখন করে আমরা কিন্তু বিভিন্নভাবে এটার কথা জেনেছিলাম। বাঁধ করে ফেলেছে, এমন ভুল ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছিল। আমরা স্যাটেলাইটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য পেয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। এর ফলও পেয়েছি। এখন দেখেন, ভারতে কিন্তু টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আর কোনো সাড়াশব্দ নেই। এজন্য তথ্যভিত্তিক কথা বলতে হবে। আপনাকে বলতে হবে ক্ষতি কী হবে, শুধু প্রতিবাদের জন্য প্রতিবাদ করলে হবে না।

দেশ রূপান্তর : ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশন আছে। অভিন্ন পানিব্যবস্থাপনা নিয়ে জাতিসংঘের প্রটোকল আছে। ভারত-বাংলাদেশ কেউই এখনো জাতিসংঘের সেই প্রটোকলে স্বাক্ষর করেনি। আপনার মতামত কী?

মালিক ফিদা এ খান : এটা তো একেবারে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পলিটিক্যাল ডিসিশনের ব্যাপার। জাতিসংঘের ১৯৯৭ সালের যে প্রোটোকলের কথা বলছেন, সেটাতে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেনি। কিন্তু করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ আছে। এটার জন্য প্রিপারেশন আছে আমাদের। অনুস্বাক্ষরের ব্যাপারটাও ভারতের সঙ্গে আমরা আলোচনা করতে পারি। স্বাভাবিকভাবেই উজানের দেশ হিসেবে ভারত চাইবে না এটাতে অনুস্বাক্ষর দিতে। ভারত এবং বাংলাদেশ যদি এটাতে অনুস্বাক্ষর করে তখনই আমাদের আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হবে। তবে আমি মনে করি আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার আগে যদি আমাদের দুই দেশের মধেই সমঝোতা হয়, এটাও খারাপ না। উদাহরণ হচ্ছে কুশিয়ারা। জাতিসংঘে না গিয়েও গঙ্গা চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। এখানে আস্থাটা খুব বেশি দরকার। উইন-উইন সিচুয়েশনে আসতে হবে। গঙ্গা চুক্তি স্বাক্ষরের সময় আটটি নদী নিয়ে আমরা কাজ করছিলাম। এবার মিটিংয়ে বলেছি আরও নদী বাড়াতে, অতএব আমরা কিন্তু এগোচ্ছি। কোর্টে না গিয়ে নিজেদের মধ্যেই সংকট মেটানোরও দরকার আছে।

দেশ রূপান্তর : নদী আর প্লাবনভূমির মধ্যে আগে যে সুস্পষ্ট পার্থক্য ছিল সেটা আর থাকছে না। আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

মালিক ফিদা এ খান : আমাদের দেশের ৮০ ভাগ এলাকাই প্লাবনভূমি। বাকি ২০ ভাগ সেখানে বন্যা হয়নি বা হতো না। আমাদের তো পপুলেশন প্রবলেম আছে, সেইম টাইম ফুড সিকিউরিটির ব্যাপার আছে। এসব কারণে বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারভেনশন করা হয়েছে, বাঁধ দিয়েছি, বোল্ডার করেছি। এখন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় আমাদের প্লাবনভূমির পরিমাণটা নির্ণয়ের চেষ্টা করছে। যেসব জায়গায় ইন্টারভেনশন হয়ে গেছে, সেসব জায়গার সঙ্গে প্লাবনভূমির মধ্যে একটা কানেক্টিভিটি স্থাপনের কথা ভাবছে। এটা ভালো উদ্যোগ। কারণ, প্লাবনভূমি এত বড় যে এটা যদি আমরা ছেড়ে দিই, আমাদের ফুড সিকিউরিটিতে সমস্যা হবে। কিন্তু কীভাবে আমরা কৃষি, মৎস্য, একুয়াটিক সিস্টেমকে রেখে এই প্লাবনভূমির ম্যানেজমেন্ট করতে পারি এ ধরনের একটা সমীক্ষা হচ্ছে।

দেশ রূপান্তর : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

মালিক ফিদা এ খান : আপনাকেও ধন্যবাদ।