তিনি কখনো সহমত পোষণ করতে বাধ্য করেননি

যুগপৎ ইতিহাস ও অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবেই আকবর আলি খানকে আমার প্রথম চেনা ১৯৮৫ সালে। পৃথক ক্লাসে নয়, একই ক্লাসে। প্রথম ক্লাসেই বললেন, স্বল্পশিক্ষিত রাজনীতিবিদ এবং কল্পপ্রবণ কবি-সাহিত্যিকরা যে বলে থাকেন এ বাংলা সোনার বাংলা ছিল, তা সম্পূর্ণ ভুয়া। ইবনে বতুতা যা দেখেছেন আর যা বর্ণনা করেছেন রাজকীয় খানাপিনা, সোনাদানা আর বিছানা ঝলসে দেওয়া নারী এত যে সস্তা, তা কখনো ভালো অর্থনীতির কোনো সূচক হতে পারে না। এসবের যতই সরবরাহ থাকুক, মূল্য যত কমই হোক কোনোকিছুই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল না। শুধু তাই নয়, একবেলা করে খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য বাংলার মানুষ স্ত্রী ও সন্তানকে বিক্রি করেছে। এমনকি নিজেকেও বিক্রি করেছে এক টাকা কি দেড় টাকায়। সুতরাং আকবর আলি খান উপসংহার টানলেন: ‘সোনার বাংলা’র প্রশ্নে এতদিন যা শুনেছেন, পড়েছেন এবং শিখেছেন  ভুল শুনেছেন, ভুল পড়েছেন, ভুল শিখেছেন।

ক্লাসের বাইরে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সময় তার পড়ানোর এই পদ্ধতিটাকে বললেন ‘ঝাঁকরান’ পদ্ধতি ঝাঁকি দিয়ে নেড়ে পুরনো বিদ্যা বের করে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করা শিখতে হবে। অল্পদিন আগে ১৮ আগস্ট ২০২২ দেশ রূপান্তরে আমি আকবর আলি খানের অর্থনীতি পাঠের একটি বর্ণনা দিয়েছি : ১৯৮৫ সালে মোরগের দাম ৫০ টাকাই ছিল। আকবর আলি খান মুদ্রাস্ফীতি ও টাকার বাজারে ধস বোঝাতে গিয়ে বললেন, হাতে পঞ্চাশ টাকা থাকলে মোরগটি আজই খেয়ে নিন; বেশি দেরি করলে ৫০ টাকায় একটা শুধু রান পাবেন; আরও দেরি করলে ৫০ টাকায় মোরগের ছবি কিনতে হবে। সময় ও সুযোগ পেলে আমিও মাস্টারি করি টের পাই অবচেতনে তার পড়ানোর শৈলী আমি অনুসরণ করছি। কেবল শৈলীটাই, তার সেই অগাধ পা-িত্য আমার নেই, যেটুকু আছে তা কাজে লাগিয়ে অনেক বিষয়ে তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছি এবং আমাকে অর্বাচীন ভেবে থাকলেও তিনি আমাকে তার সঙ্গে সহমত পোষণ করতে বাধ্য করেননি।

১৯৯৬ সালে তার লেখা ডিসকভারি অব বাংলাদেশ প্রকাশিত হলে সানন্দে ক্রয় করি এবং কুইনস বিশ^বিদ্যালয়ে দাখিল করা তার পিএইচডি থিসিসটির প্রতিও আগ্রহী হয়ে উঠি। সাম আসপেক্টস অব পেজেন্ট বিহেবিয়র জোগাড় করি। তার বিচ্ছিন্ন লেখা কেটে জমিয়ে রাখি। আমার স্বাভাবিক কৌতূহল থেকে একদিন তাকে জিজ্ঞেস করি, স্যার, বই প্রকাশের আগে আপনি কি সরকারের অনুমতি নিয়েছেন?

ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি জিজ্ঞেস করেন, আমাকে এ প্রশ্ন কেন করছেন? আমি বলতে চাচ্ছিলাম আমাদেরও কেউ কেউ লিখেটিখে থাকেন, কিন্তু আমাদের জানানো হয়েছে সরকারের অনুমতি না নিয়ে বই প্রকাশ করা যাবে না। আমার জবাবটি দিতে হয়নি। তিনি তার স্বর অক্ষুন্ন রেখে বললেন, এজেডএম ওবায়দুল্লাহ খানও (ডাকসাইটে আমলা এবং ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কাব্যগ্রন্থের কবি) কখনো অনুমতি নেননি।

আমি বললাম, থ্যাঙ্ক ইউ স্যার, উত্তর পেয়ে গেছি।

চাকরি জীবনে আমি অবসরের বয়স স্পর্শ করা কর্মকর্তাদের এক্সটেনশন প্রাপ্তির বিরোধিতা করেছি এবং আমাদের বিরোধিতার কথা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন থেকে তাকেও জানিয়েছি। তিনি সাড়া দিলেন ভিন্নভাবে। বললেন, এটা সরকারের এখতিয়ার, সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কোনো বিষয় নয়। সুতরাং ক্ষুব্ধ হয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের উঞ্ছবৃত্তি নামে একটি লেখা প্রকাশ করে তাতে আশঙ্কার কথা লিখলাম, আকবর আলি খানও কি এক্সটেনশন চাইবেন? লেখাটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সজ্জন অতিরিক্ত সচিব আফতাব উদ্দিন খানের হাতে পড়লে আমাকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সম্ভাব্য রোষ থেকে রক্ষা করতেই লেখাটি আকবর আলি খানকে দেখিয়ে বললেন, স্যার এটা ইননোসেন্ট লেখা, এক্সটেনশনের বিরুদ্ধে একটা কমন সেন্টিমেন্ট তুলে ধরেছে। এমনিতে ছেলেটি ভালো।

তিনি জবাব দিয়েছিলেন, আমি চিনি।

চাকরির ধরনের কারণে তাকে এড়িয়ে অন্যপথে যাওয়ারও উপায় ছিল না। অল্পদিনের মধ্যে মুখোমুখি হতেই বললেন, লেখা দেখেছি। এসব লিখতে সরকারের অনুমতি লাগে কিনা সেটাই কি জিজ্ঞেস করেছিলেন?

আমি নিশ্চুপ থাকি। তার পরার্থপরতার অর্থনীতি প্রকাশিত হলে বইটি উপলক্ষ করে ‘নাসিরউদ্দিন হোজ্জার অর্থনীতি’ শিরোনামের একটি উপসম্পাদকীয় লিখি। বইয়ের প্রশংসার পাশাপাশি প্রায়োগিক অর্থনীতির প্রশ্ন রাখি : দুজন বড় প-িত যথাক্রমে অর্থসচিব (আকবর আলি খান) এবং অর্থমন্ত্রী (এসএএমএস কিবরিয়া) চেয়ার ধরে রাখার সময় শেয়ার বাজারে প্রলয়ঙ্করী ধস কেমন করে নামল? দুজনের মুখই কুলুপ আঁটা তারা কি এর দায় এড়াতে পারবেন? শেয়ারবাজারে সর্বস্ব হারানো কপাল চাপড়ানো মানুষের হয়ে প্রশ্নটি সামনে রেখেছিলাম :  আকবর আলি খান গ্রন্থটি তিনি পেশাদার অর্থনীতিবিদ হিসেবে লিখেছেন না শৌখিন অর্থনীতিবিদ হিসেবে তা কোথাও বলেননি। সম্ভবত নিচের দুটো তত্ত্বই তিনি ভালো জানেন।

প্রথম তত্ত্ব (বেন্টলে’স সেকেন্ড ল অব ইকোনমিক্স) : পেশাদার অর্থনীতিবিদের চেয়ে ভয়াবহ একজন আছেন, তিনি শৌখিন অর্থনীতিবিদ।

দ্বিতীয় তত্ত্ব (বার্টা’স ফান্ডামেন্টাল ল অব ইকোনমিক রেন্ট) : শৌখিন অর্থনীতিবিদের চেয়ে ভয়াবহ একজন আছেন, তিনি : পেশাদার অর্থনীতিবিদ।

কৌটিল্য থেকে ক্রুগম্যান, মার্ক্স থেকে মার্কেট হরেক অনুসন্ধানের জবাব মেলে আকবর আলি খানের রচনায়। কিন্তু তার মৌলিক সংযোজন কোনটি? সামাজিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও আচরণ?

সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কচ্যুত হওয়ায় তিনি ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়ে দীর্ঘসময় অধ্যাপনা করেছেন। এখানে ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স স্টাডিজ নামের একটি স্কুলে সুশাসন ও উন্নয়ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাঠ এবং ডিগ্রি দেওয়া হতো। তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিসন্দর্ভ রচনায় তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন, আমার দুর্লভ সৌভাগ্য এমন কয়েকজনের অভিসন্দর্ভ মূল্যায়নের পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছি আমি। তার সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ক্ষীণ হয়ে এলেও যখন তার নতুন বই বাজারে এসেছে ঢাকঢোল পিটিয়েই এসেছে, সে বাদ্য আমি শুনেছি। বইয়ের নাম আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি, অবাক বাংলাদেশ ও বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি, দুর্ভাবনা ও ভাবনা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে, চাবিকাঠির খোঁজে নতুন আলোকে জীবনানন্দের বনলতা সেন, পুরনো সেই দিনের কথা, অন্ধকারের উৎস হতে : সাহিত্য, সমাজ পরিবেশ ও অর্থনীতি সম্পর্কে আলোর সন্ধান, গ্রেশাম’স ল সিনড্রোম অ্যান্ড বিয়োন্ড, ফ্রেন্ডলি ফায়ার্স, হাম্পটি ডাম্পটি ডিজঅর্ডার অ্যান্ড আদার এসেজ।

বছর দশেক আগে একটি জাতীয় দৈনিকের বর্ষপূর্তি সংখ্যায় আকবর আলি খানের একটি লেখা চাই-ই; কিন্তু তার হাতে সমাপ্ত বা প্রায় সমাপ্ত কোনো বাংলা লেখা নেই। অনুরোধে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উনিশ-কুড়ি পৃষ্ঠার ইংরেজি একটি লেখা দিয়ে বললেন, সঠিক লোককে দিয়ে যদি অনুবাদ করাতে পারেন তবেই ছাপবেন।

সমস্যা আরও আছে লেখাটিকে কেটেছেঁটে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার বাংলা শব্দে ঠাঁই দিতে হবে। লেখাটি তাকে আগে দেখাতে হবে, অনুমোদন করলে ছাপা হবে। অনুবাদকের সন্ধানে শেষ পর্যন্ত আমাকেই বের করা হলো এবং তা আকবর আলি খানকে জানানো হলে তিনি বললেন তা হলে ছাপার আগে তাকে আর দেখাবার প্রয়োজন নেই। কারণ আমার লেখা সম্পর্কে অনুবাদকের ধারণা আছে।

আমি খুব প্রীত হই, বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধাচরণ করেও অন্তত লেখালেখির প্রশ্নে তার আস্থাভাজনই রয়ে গেছি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও তার প্রিয় কাজিন বিভিন্ন সময় তাকে বিচিত্র বিষয়ে বই সরবরাহকারী আমারও ততোধিক প্রিয় বন্ধু ও সহকর্মী ইলাহী দাদ খানের কাছে তিনি কী করছেন, কী লিখছেন সে খবর হামেশাই পেয়েছি পুরোনো সেই দিনের কথা আত্মজীবনীর প্রথম খন্ডে দু’একটি তথ্যগত সংশোধনীর প্রয়োজনীয়তা শনাক্ত হয়েছে; দ্বিতীয় খন্ডের কতটুকু লিখিত হয়েছে ইত্যাদি। আমার অনেক বন্ধুর মতো আমিও তাকে শেষ দেখি, খানিকটা দূর থেকে ১৯ আগস্ট ২০২২ আমার স্কুলজীবনের বন্ধু বিআইডিএস প্রধান বিনায়ক সেনের মেয়ে টুম্পার বিয়ে-উত্তর সংবর্ধনায়, অফিসার্স ক্লাবে।

দুই.

আকবর আলি খান ‘বিচারপতি কে এম হাসানের নেতৃত্বাধীন কেয়ারটেকার সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিচ্ছেন এমন কথা রটে গিয়েছিল। কিন্তু বিচারপতি হাসান বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে দায়িত্ব নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকৃতি জানান। প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই একইসঙ্গে সরকারপ্রধান হয়ে যখন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করলেন তার দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আকবর আলি খান, অর্থসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় তার দায়িত্বে। আমি ভিন্ন একটি সংস্থায় কাজ করছি। তিনি আমাকে ডেকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেন, বিব্রত বোধ করলে আমার জবাব না দিলেও চলবে। প্রশ্নটা হচ্ছে : আপনি তো শুরুতে প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের প্রাইভেট সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি আপনাকে সরিয়ে দিয়েছেন না আপনি সরে এসেছেন? আমি বললাম, প্রেসিডেন্ট সাহেবের যে স্ট্যান্ডার্ড তার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হলে আমার স্ট্যান্ডার্ড আরও অনেকটা নামিয়ে ফেলতে হতো। সুতরাং আমিই বেরোতে চাচ্ছিলাম। তিনিও চাচ্ছিলেন আমার বদলে তার প্রিয়ভাজন একজনকে নিতে। ফলে সমস্যা হয়নি।  সেখান থেকে ফেয়ারওয়েল নিয়েই এসেছি। তিনি আরও একটি দুটি প্রশ্ন করলেন। জবাব দিয়ে ফিরে এলাম।

আমি তাকে সচিবদের প্রধান হিসেবে দেখেছি। আমার প্রত্যাশা ছিল তিনি উপদেষ্টাদেরও নেতৃত্ব দেবেন। এটা হয়তো তার প্রত্যাশা ছিল না, চোখকান যারা খোলা রেখেছেন, যাদের পর্যবেক্ষণ তীক্ষè এবং যাদের প্রত্যাশা আমার অনুরূপ ছিল তারা দ্বিতীয় মাসেই টের পেয়ে গেছেন আকবর আলি খান পিছিয়ে পড়ছেন। নেতা হিসেবে ‘এমার্জ’ করা একটি রাজনৈতিক গুণ। যত দক্ষই হোন না কেন আমলার কাছে এটা প্রত্যাশা না করাই ভালো।  ২০০৭-এর জানুয়ারির ৮ বা ৯ তারিখে তিনি আমাকে ফোন করলেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে এসে তার সঙ্গে দেখা করে যেতে বললেন। আমি দুপুর নাগাদ এলাম, দু’তিন মিনিট অপেক্ষা করতে হলো, অর্থ সচিব উপদেষ্টার বিশাল কক্ষ থেকে বেরোতেই আমি ঢুকে পড়লাম। আমি বসতেই তিনি বললেন, পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে।

হয়তো আরও একটি দুটি বাক্য শোনা হতো; কিন্তু এ সময় লাল ফোন বেজে ওঠে। আমি আঁচ করি তিনি অন্য কোনো উপদেষ্টার ফোন ধরেছেন। দু’মিনিট না যেতে ভেতরে বেশ কজন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক ঢুকে পড়লেন। মনে হলো উপদেষ্টার কোনো স্টাফ দরজায় আরও কজনকে ঠেকাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। অর্থ উপদেষ্টা ফোনে বললেন, তারা তো এসে গেছেন।

তিনি ফোন রাখলেন। একজন সাংবাদিক বললেন, মাহবুব ভাই আপনাকে কথা বলতে বলেছেন।

আমার অনুমানটি ভুল হয়তো নয়। ফোন করেছিলেন, উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম, ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টের সদ্য দায়িত্ব ছেড়ে আসা সম্পাদক। আমি শুধু বললাম, স্যার আমি আজ আসি। শিগগির আবার আসব। সাংবাদিকবেষ্টিত অবস্থায় আমাকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার ফুরসত তার ছিল না। আমি বেরিয়ে এলাম। তারপর এক এগারো ঘটে গেল।

১২ জানুয়ারি আকবর আলি খান উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করলেন। তার সঙ্গে বিদায় নিলেন আরও তিনজন। আকবর আলি খান তার পদত্যাগ যৌক্তিকীকরণ করতে বিবৃতিও দিয়েছিলেন। বললেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারে থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে অবদান রাখার কোনো সুযোগ নেই। অবস্থা যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে আরও আগেই কেন বললেন না? তার ছয়জন সহকর্মী উপদেষ্টাই বা কোন অবদান রাখার প্রত্যাশায় রয়ে গেলেন? আকবর আলি খান স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা (জাতি এমনিতে তা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে)। মুক্তিযোদ্ধার এই স্পিরিট তিনি উপদেষ্টা পরিষদে থেকে দেখাতে পারলেন না, পদত্যাগ করে দেখাতে হলো। আফসোস!

১৯৬৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত চল্লিশ বছর তিনি সরকারের ভেতরে থেকে বহু অপ্রত্যাশিত ঘটনা দেখেছেন, উত্তরণের কাজে অংশও গ্রহণ করেছেন মূলত সচিবালয় নির্দেশিকা মেনে। নির্দেশিকা মেনে দক্ষ কেরানি থেকে দক্ষ সচিব পর্যন্ত হওয়া যায়, নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায় না। দুর্ভাগ্য আকবর আলি খানের এবং দুর্ভাগ্য আমাদেরও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করতে পারেননি।

তারপরও অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা, ভালো ও মন্দের মুখোমুখি অবস্থানে তিনি বরাবর ভালোকে সমর্থন জানিয়েছেন। সংকটকালে রাষ্ট্রের বিবেকবান মানুষ শোনার অপেক্ষায় থাকতেন আকবর আলি খান কী বলেন, সেটাই জাতির জন্য দিকনির্দেশনা।

লেখক: সরকারের সাবেক কর্মকর্তা ও কলামিস্ট

momen98765@gmail.com