দুর্দিনে আ.লীগকে আগলে রাখা সাজেদার বিদায়

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী আর নেই। গতকাল রবিবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠকের বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রহী রেখে গেছেন। সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবু গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে মায়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

সংসদ উপনেতার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। 

সাজেদা চৌধুরীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ রায়হান দেশ রূপান্তরকে জানান, আজ  বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাজেদা চৌধুরীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ জোহর তার নির্বাচনী এলাকা নগরকান্দায় হবে দ্বিতীয় জানাজা। বাদ আসর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে সাজেদা চৌধুরীকে।

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের জন্ম ১৯৩৫ সালে। তার বাবা সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মা সৈয়দা আছিয়া খাতুন। তার স্বামী প্রয়াত ভাষাসৈনিক গোলাম আকবর চৌধুরী। জীবদ্দশায় ৬৬ বছরই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন সাজেদা।

তিনি ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থায়ীভাবে চলে আসেন তিনি। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন তিনি। ১৯৭২-৭৫ সময়কালে বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন বোর্ডের পরিচালক, ১৯৭২-৭৬ সময়কালে বাংলাদেশ গার্ল গাইডের ন্যাশনাল কমিশনার।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগ যখন ক্রান্তিকালে পড়েছিল তখন সাজেদা চৌধুরী দলের হাল ধরেন। দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর যে ক’জন একনিষ্ঠ কর্মীকে কাছে পেয়েছিলেন সাজেদা চৌধুরী ছিলেন তার মধ্যে অন্যতম। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগে ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন সাজেদা চৌধুরী। এর পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রত্যেকটিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

সাজেদা চৌধুরী ১৯৭০-৭৩ মেয়াদে জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং ১৯৭৩-৭৫ মেয়াদে প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ১৯৯১-৯৫ সময়কালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ এবং ১৯৯৬-২০০১ সময়কালে সপ্তম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পঞ্চম জাতীয় সংসদে তিনি সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং সপ্তম জাতীয় সংসদে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের উপনেতা নির্বাচিত হন। শারীরিক অসুস্থতায় প্রায় দেড় বছর সংসদে অনুপস্থিত দেখা গেছে সাজেদাকে। একই কারণে দলের নীতিনির্ধারণী সভায়ও উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। গত সপ্তাহে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।