বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এরপর মানবাধিকার না মানলে অন্যান্য বাহিনীর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
গতকাল রবিবার উত্তরার আব্দুল্লাহপুর পলওয়েল মার্কেটের সামনে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে ১৬টি সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। উত্তরার এ সমাবেশ নিয়ে দুটি সমাবেশ হলো। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। স্থান পরিবর্তন করতে হয়। গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্যাংশন দিয়েছে। এটা জাতির জন্য লজ্জার। অথচ সরকারের লজ্জা হয় না। বরং তারা এটা নিয়ে লাফালাফি করে। নারায়ণগঞ্জে আমাদের যুবদলের নেতা শ্রাবণকে গুলি করে পুলিশ হত্যা করেছে। পুলিশের কাছে চাইনিজ রাইফেল কীভাবে গেল, তার ব্যাখা আমরা সরকারের কাছে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে পাইনি। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর কোনো ব্যাখা দেননি। এভাবে আইন না মেনে মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে র্যাবের মতো অন্য যেকোনো বাহিনীর ওপর স্যাংশন আসতে পারে।’
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আজ সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে। আমাদের প্রতিশোধ একটাই। আর সেটা হলো দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার। আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। এ আন্দোলনে আমাদের বিজয় নিশ্চিত।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী আহত। কিশোরগঞ্জের শ্রাবণের বুকে গুলি লেগেছে। তার কিডনি, লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁচবে কি না তা নিয়ে চিকিৎসকরা শঙ্কিত। তার মা আজ অসহায়। আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে। এসএম জাহাঙ্গীরের নামে গায়েবি মামলা আছে। এভাবে সারা দেশের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আমাদের কর্মসূচি পালন করতে দেয় না।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা ভালো নেই। রিজার্ভ নিয়ে সরকার বেশ লাফালাফি করেছিল। রিজার্ভ কমতে কমতে তলানিতে নেমেছে; যা তিন মাসও চলবে না। গত বছর বাংলাদেশ থেকে ৮৫ হাজার কোটি টাকা সরকারের লোকজন পাচার করেছে।’
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক।