দুই দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠক

গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশ ভুটান ট্রানজিট চুক্তি

বাংলাদেশ ও ভুটানের বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে অষ্টমবারের মতো ঢাকায় শুরু হচ্ছে দুই দিনের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক। আজ মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া বৈঠকে দেশ দুটির মধ্যে স্বাক্ষরিত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে সহজে পণ্য চলাচলের জন্য ট্রানজিট চুক্তি ও প্রটোকলের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এবারের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এই চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আজ রাজধানীর হোটেল হলিডে ইন ঢাকায় অনুষ্ঠিত এবারের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং ভুটান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ডাসো কারমা শেরিং। এছাড়াও বৈঠকে ভুটানের বাণিজ্য বিভাগের মহাপরিচালক সোনাম টেনজিন, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স শেরাব দর্জি প্রমুখ। বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব ছাড়াও অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ গতকাল সোমবার বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে সহজে পণ্য চলাচলের জন্য ট্রানজিট চুক্তি ও প্রটোকলের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এবারের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এই চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান। দেশ দুটির বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয় ২০১২ সালে। ভুটান থেকে বাংলাদেশে সবজি ও ফলমূল, খনিজ দ্রব্য, নির্মাণ সামগ্রী, বোল্ডার পাথর, চুনাপাথর, কয়লা, পাল্প, রাসায়নিক আমদানি করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভুটানে তৈরি পোশাক, আসবাব, খাদ্য সামগ্রী, ওষুধ, প্লাস্টিক, বৈদ্যুতিক পণ্য রপ্তানি হয়।

ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি থাকলেও কিছুদিন ধরে ট্রানজিট চুক্তি সইয়ের বিষয়টি অনেকটা চূড়ান্ত হওয়ার পথে এগিয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে বাংলাদেশকে ভারত বিনা মাশুলে তাদের স্থলবন্দর, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশে পণ্য পরিবহনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ মূলত নেপাল ও ভুটানে পণ্য পরিবহনে কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাবে। বাংলাদেশের পণ্যবাহী ট্রাক ভারত হয়ে নেপাল ও ভুটানে যেতে পারবে। এতে দেশ দুটিতে পণ্য রপ্তানি বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ভারতের এমন প্রস্তাবের কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভুটান সচিব পর্যায়ের বৈঠক। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন এবারের বৈঠকে দেশ দুটির মধ্যে ট্রানজিট চুক্তি সই হতে পারে।

তপন কান্তি ঘোষ আরও বলেন, ‘ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের পক্ষ থেকে পিটিএ কার্যকর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ মূলত এখানে গুরুত্ব পাবে।’ তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পিটিএর মধ্যে ভুটান আরও কিছু পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। একই সঙ্গে তারা সোনারহাট স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার প্রস্তাব করেছে। সচিব বলেন, পিটিএ কার্যকর করার ক্ষেত্রে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। পিটিএ কার্যকর করার জন্য এরই মধ্যে দুই দেশের কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষ গত ১ জুলাই এসআরও জারি করেছে। এটি আমাদের বড় অর্জন। এখন কেবল সেটি এগিয়ে নেওয়াই আমাদের প্রধানতম কাজ।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে পিটিএ স্বাক্ষর হয়। বাংলাদেশ প্রথম এবং একমাত্র অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বা পিটিএ করেছে ভুটানের সঙ্গে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ১০০টি পণ্য ভুটানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে আর ভুটানের ৩৪টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এবারের বৈঠকে ভুটান এই চুক্তির আওতায় আরও কিছু পণ্য অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করেছে।