জলবায়ু সহনশীল বিনিয়োগে প্রশংসা বিশ্বব্যাংকের

দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে জীবনরক্ষা, অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা এবং উন্নয়ন অর্জন রক্ষায় বাংলাদেশের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল সোমবার বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকলেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনে বিশ্বে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা রেখেছে এবং উপকূল সহনশীলতায় সক্রিয়ভাবে বিনিয়োগের জন্য পরিচিত।

জলবায়ু ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশকে এর উন্নয়ন অর্জন ধরে রাখতে উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে বৈশ্বিক এ সংস্থাটি। ‘বাংলাদেশ এনহানসিং কোস্টাল রেজিলিয়েনস ইন এ চেঞ্জিং ক্লাইমেট’ নামে এ প্রতিবেদন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় সহনশীলতা বাড়াতে অধিকতর কার্যক্রম হাতে নেওয়ার সুপারিশ করেছে। ঝুঁকির চালিকাগুলো কী কী এবং সরকার কীভাবে এসব ঝুঁকি কমিয়েছেÑ সে বিষয়ে এ প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ রয়েছে এবং নতুন প্রেক্ষিত ও উদ্ভাবনী সমাধানের পরামর্শ এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ দেখিয়েছে দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কীভাবে জীবন রক্ষা করে, অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি কমায় এবং উন্নয়ন অর্জন রক্ষা করে। একটি কৌশলগত নীতি কাঠামোর আওতায় মাঠপর্যায়ে অভিযোজন এবং কমিউনিটিভিত্তিক পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান এবং উদ্ভাবনে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে অবকাঠামো বিনিয়োগে নানা উদ্যোগের কারণে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি ১০০ গুণ কমিয়েছে।

তবে দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা, পরিবেশগত অবনতি এবং ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকি উপকূলীয় অঞ্চলের বিদ্যমান প্রাকৃতিক ও অবকাঠামো ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যেখানে প্রায় চার কোটি মানুষ বাস করে। সহনশীলতা বাড়াতে বাংলাদেশকে আরও জরুরি কিছু উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যানড্যান চেন বলেন, ‘উপকূলে সহনশীলতা কোনো অপরিবর্তনীয় লক্ষ্য নয়, বরং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর মধ্যে সমন্বয় খুঁজে বের করা এর উদ্দেশ্য। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে গত ৫০ বছর ধরে জলবায়ু সহনশীলতা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নতিতে সহায়তা করছে। আজ বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং জলবায়ু সহনশীলতার উন্নতিতে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, যা অন্যান্য জলবায়ু ঝুঁকিগ্রস্ত দেশের জন্য অনুপ্রেরণা।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূলে জলবায়ু-সহিষ্ণুতায় অধিকতর বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়ন করবে। উপকূলীয় এলাকায় সহনশীলতা বাড়াতে প্রতিবেদনে সাতটি মূল সুপারিশ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অবকাঠামোর পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার; স্থানীয় অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি এবং অত্যাধুনিক মডেলিং টুলসের ব্যবহার। পরিবর্তনশীল জলবায়ু এবং উপকূলে গতিশীল প্রক্রিয়ার কথা বিবেচনা করে অভিযোজনযোগ্য ডেল্টা ব্যবস্থাপনার দিকনির্দেশনামূলক নীতি হিসেবে একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো ব্যবহার করা উচিত। অবকাঠামো বিনিয়োগ হওয়া উচিত প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের পরিপূরক হিসেবে। টেকসই সহিষ্ণুতার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি অংশীদারিত্ব এবং জীবিকার অভিযোজন থেকে উপকূলীয় এলাকা উপকৃত হতে পারে। শেষে একটি সমন্বিত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যার কেন্দ্রে থাকবে ঝুঁকি প্রশমন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, সমৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন।

বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিবেদনটির সহ-রচয়িতা স্বর্ণা কাজী বলেন, ‘উচ্চ বিনিয়োগের প্রয়োজনীতা বিবেচনা করে আমরা অতীতের সম্পৃক্ততা থেকে শিখতে পারি এবং উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে পেতে পারি। এ রিপোর্টে প্রথমবারের মতো ১৯৬০ সালের পর থেকে এ বিষয়ে সব বড় প্রকল্পের মূল্যায়ন করা হয়েছে।’