আগামী বছর অক্টোবরের মধ্যেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ ৯১ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে যাবে। বর্তমানে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্র্যন্ত ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখন সময় গড়াবে আর শতাংশ বাড়বে দ্বিগুণ করে। এভাবেই স্বপ্নের এ প্রকল্প এগিয়ে যাবে উদ্বোধনের দিকে। গতকাল সোমবার এমনই আশার বাণী শুনিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান। বৃষ্টিভেজা দুপুরে তারা গোটা টার্মিনালের নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে এ আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুকেশ কুমার সরকার, মহিদুল ইসলাম, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মালেক এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
নির্মাণাধীন টার্মিনালের তৃতীয় তলায় বসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বহুল আলোচিত টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কারা পাবেন, কীভাবে পাবেন তার জন্য নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। দরপত্রের মাধ্যমে বিশ্বমানের কোম্পানিকেই বাছাই করা হবে। এটা সামনেই দেখা যাবে।’
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, ‘থার্ড টার্মিনালের কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। দরপত্রে উল্লিখিত মানের পণ্যই এ প্রকল্পের কাজে সরবরাহ নেওয়া হবে, অন্য কোনো কিছু গ্রহণ করা হবে না। রাষ্ট্রের বা জনগণের এক পয়সা ক্ষতি হয়, এরকম কোনো কিছু এখানে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সবই স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হচ্ছে। কেউ কেউ হয়তো চেষ্টা করেছে কিন্তু তারা সাকসেস হতে পারেনি। এ জন্য তাদের আনা মালামাল ফেরতও দেওয়া হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী মাহবুব বলেন, ‘২০২৩ সালের অক্টোবরে তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন করতে পারব। আকাশ থেকে যেন দেশের উন্নয়ন দেখা যায়, সেদিকেও নজর দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান পরিবহনসংশিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী চান আকাশপথে মানুষ আসার পথে যেন বাংলাদেশের উন্নয়ন অনুভব করতে পারেন। সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে সিলেট, চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। যারা সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে গিয়েছেন, প্রত্যেকেই এর ডিজাইন দেখে পছন্দ করেছেন। রাজশাহী এয়ারপোর্ট, বরিশাল এয়ারপোর্টের কাজেও হাত দেওয়া হবে। বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন সারা পৃথিবীর আকর্ষণ। জার্মানি-সুইজারল্যান্ড সবারই দেশের এয়ারপোর্টের প্রতি আকর্ষণ রয়েছে। কভিডের এ দুঃসময়ে এসে কাজ অব্যাহত রাখতে পেরেছি। যেখানে সারা বিশ্ব করোনায় বিপর্যস্ত, সেখানে সবার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়েই বিমানের উন্নয়নকাজ চলমান আছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু হলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লাগেজ ডেলিভারি দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে এ কাজটা ভালোভাবে যারা করতে পারবে, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের দেওয়া হবে। লাগেজ ডেলিভারির ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। এখানে লোকবল দক্ষ করতে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। আগামী বছর অক্টোবরে ৯১ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়ে যাবে। তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হলে বছরে যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা হবে ২২ মিলিয়ন। অ্যাপ্রোন পার্কিং হবে ৪৬টি। বর্তমানে অবকাঠামোগত কারণে আমরা বিমানবন্দরে ফুল সার্ভিস দিতে পারি না। গণমাধ্যমে বিমানবন্দরে কোনো অসংগতি উঠে এলে আমরা সঙ্গে সঙ্গেই তা সমাধান করি। যাতে কোনো যাত্রী হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করি। আগামী দিনে তৃতীয় টার্মিনালসহ এক ও দুই নম্বর টার্মিনালের সেবার মান যাতে আন্তর্জাতিক মানের হয়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।’
থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং নিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করার কথা ভাবছি। তখন সব নিয়ম ও শর্ত পরিপালন করে যারা যোগ্য বিবেচিত হবে তারাই ই টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ পাবে। আমাদের লক্ষ্য যাত্রীদের উন্নত সেবা প্রদান করা, তার জন্য করণীয় সব কাজ করা হবে।’
বিমানবন্দরে গোলচত্বরে এত প্রকল্পের জটলায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে থার্ড টার্মিনালের যাত্রীদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব আলী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নলেজে আছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নির্দেশ দিয়েছেন একাধিকবার যাতে বিমানবন্দরের যাত্রীরা নির্বিঘেœ প্রবেশ করে বাহির হয়ে যেতে পারে।’