বাংলাদেশি কনটেইনার জাহাজ রপ্তানি হলো যুক্তরাজ্যে

বাংলাদেশের তৈরি আরও একটি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজ রপ্তানি হলো যুক্তরাজ্যে। দেশীয় জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আনন্দ শিপইয়ার্ডের তৈরি ৬ হাজার ১০০ টন ধারণক্ষমতার জাহাজটি কিনেছে যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান এনজিয়ান শিপিং কোম্পানি লিমিটেড। জাহাজটি রপ্তানি করে ১০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ (গতকাল) একটি অত্যাধুনিক মাল্টিপারপাস কনটেইনার জাহাজ যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করল। এটা আমাদের গর্বের দিন। এ রপ্তানি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে। আমরা প্রত্যাশা করছি ভবিষ্যতে এ শিল্পটি তৈরি পোশাক শিল্পের কাছাকাছি রপ্তানি আয় অর্জন করতে পারবে।’

খালিদ মাহমুদ আরও বলেন, ‘সমুদ্রসীমা জয় করলেও আমরা সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগাতে পারিনি। এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছি। সম্ভাবনাময় এ খাত এগিয়ে নেওয়া জরুরি।’ তিনি জানান, সরকার এর উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। চট্টগ্রাম, মাতারবাড়ী, মোংলা, পায়রাসহ সব বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাহাজটি ৩৬৪ ফুট লম্বা, প্রস্থে ৫৪ ফুট ও গভীরতা ২৭ ফুট। জাহাজটির ইঞ্জিনের ক্ষমতা ৪১৩০ হর্স পাওয়ার, গতি ১২.৫ নটিক্যাল মাইল ও ধারণক্ষমতা ৬ হাজার ১০০ টন। এটি কনটেইনার, ভারী স্টিলের কয়েল, খাদ্যশস্য, কাঠ, পাশাপাশি বিপজ্জনক মালামাল বহন করতে পারে। বাল্টিক সমুদ্রে সম্পূর্ণ বরফ আচ্ছাদিত অবস্থায় ৪ ফুট বরফের পানিতে চলতে পারবে।

অনুষ্ঠানে আনন্দ শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান ড. আবদুল্লাহ বারী বলেন, ‘আনন্দ শিপইয়ার্ড ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে সোনারগাঁয়ের মেঘনা ঘাটে আন্তর্জাতিকমানের জাহাজ নির্মাণ করছে। ইয়ার্ডের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা জাহাজ নির্মাণে ব্যবহৃত লোহা প্রায় ৩০ হাজার টন। এ দেশে আধুনিক জাহাজ নির্মাণের কলাকৌশল ও পদ্ধতি আমরা প্রচলন, পরিচিত ও প্রসারিত করেছি।’ তিনি বলেন, ‘সরকার জাহাজ নির্মাণশিল্প খাতকে থ্রাস্ট সেক্টর ঘোষণা করে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছে। বিশেষ সুবিধাদি প্রদান করছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জাহাজ নির্মাণ খাত বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষ বৃহৎ এক্সপোর্ট বাসকেটে পরিণত হবে।’

আনন্দ শিপইয়ার্ড এখন পর্যন্ত ৩৫৬টি জলযান নির্মাণ করে দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ সালে ডেনমার্কে অত্যাধুনিক কনটেইনার জাহাজ ‘স্টেলা মেরিস’ রপ্তানির মধ্য দিয়ে বংলাদেশের জন্য জাহাজ রপ্তানি উন্মোচন করে ও বাংলাদেশ জাহাজ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিতি পায়। প্রতিষ্ঠানটি ডেনমার্ক, জার্মানি, নরওয়ে ও মোজাম্বিকসহ বিভিন্ন দেশে জাহাজ রপ্তানি করছে। আনন্দ শিপইয়ার্ডে একসঙ্গে আটটি ১০ হাজার টন ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ নির্মাণের ভৌত সুবিধা আছে। একই সঙ্গে ইয়ার্ডটি অন্যান্য অনেক ছোট আকারের নৌযান তৈরি করতে পারে এবং নিয়মিত করছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আনন্দ শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা বারী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (শুল্ক নীতি) হোসেন আহমেদ, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর নিজামুল হক, ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মনিরুল মওলা বক্তব্য রাখেন।